মলয় ঘোষের এই দীর্ঘ প্রবন্ধে উত্তমকুমার শুধু এক জনপ্রিয় নায়ক নন, বরং বাংলা অভিনয়-ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র শিল্পভাষা হয়ে ওঠেন। ‘অগ্নিপরীক্ষা’ থেকে ‘নায়ক’, ‘সন্ন্যাসী রাজা’ থেকে ‘সব্যসাচী’—উত্তমের অভিনয়ের বিবর্তন, তাঁর ম্যানারিজম, স্বকীয়তা ও নিজেকে ভাঙার সাহসকে বিশ্লেষণ করে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে একজন তারকা ধীরে ধীরে এক অনতিক্রম্য অভিনেতায় পরিণত হন। এই লেখা একইসঙ্গে স্মৃতি, সমালোচনা ও এক সাংস্কৃতিক পুনর্মূল্যায়নের দলিল।
বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে উত্তমকুমারের বিশিষ্টতা আমাদের বহুকাল থেকে আচ্ছন্ন করে আছে, আরও বহুকাল আচ্ছন্ন করে থাকবে, একথা প্রবল নিশ্চিন্তির সঙ্গে আমরা অনুভব করতে পারি।
খুব কম তথাকথিত ‘আর্ট ফিল্ম’-এ অভিনয় করলেও উত্তমকুমার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ছবির বিভিন্ন অংশে যেটুকু অভিনয়ের সক্ষমতা দেখাতে পেরেছেন, তা এককথায় অনবদ্য, স্মৃতিধার্য এবং কালজয়ী। স্তানিস্লাভসকির ‘মেথড একটিং’য়ের সঙ্গে ব্রেখটের ‘এলিনিয়েশন এক্টিং’য়ের এক অভূতপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায় উত্তমকুমারের অভিনয়ে। এক সময় সমালোচকরা তাঁর অভিনয় শুধু সাধারণ বাঙালির জন্য, তিনি এলিট ক্লাস বা শিক্ষিত, বোদ্ধাদের জন্য নয় বলে একটা ধুয়ো তুলেছিলেন। কারণ প্রথম দিকে ‘দৃষ্টিদান’ (১৯৪৮) থেকে ‘সঞ্জীবনী’ (১৯৫২) পর্যন্ত তিনি কিছুই প্রায় করতে পারেননি সেভাবে। সুদর্শন অভিনেতার সৌন্দর্যই সেখানে কিছুটা আলো ফেলেছিল মাত্র। তারপর ‘বসু পরিবার’ (১৯৫২) -এ কিছুটা মাটি তিনি পায়ের তলায় অনুভব করলেও তা তেমন শক্ত ছিল না। এরপর ক্রমশ তিনি পরিণত হতে শুরু করেন। তবে পরের বারোটি ছবিতে উত্তমের অভিনয়ের পর্যায়ক্রমিক উন্নতি চোখে পড়লেও, তার পরিণতি যে কী হতে পারে সে-সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ ছিল যথেষ্ট। প্রতিষ্ঠা এল ১৯৫৪ সালে। ‘অগ্নিপরীক্ষা’য় উত্তীর্ণ হলেন তিনি সসম্মানে। রাম-সীতার দেশে ‘অগ্নিপরীক্ষা’র ঝামেলা এড়িয়ে কি কেউ স্বীকৃতি পায়!
১৯৫৪-তে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ১৯৫৭-তে ‘হারানো সুর’ এবং ১৯৬১-তে ‘সপ্তপদী’—এই তিনটি ছবিতেই উত্তমকুমার প্রায় অনেকখানি সন্দেহ দূর করে দিলেন বাঙালি দর্শকের। বলা যায় তিনি আপামর সাধারণ বাঙালির মন জয় করে নিলেন অবলীলায়। ১৯৫৫ সালে ‘হ্রদ’ এবং ১৯৬২ সালে ‘সপ্তপদী’র জন্য বি.এফ. জে. এ. পুরস্কার চলে এল উত্তমকুমারের ঝুলিতে। পুরস্কার আর ভাল লাগানো—এই দুইয়েই যখন সফল হলেন তিনি তখন আর বাঙালির তাঁকে মেনে নিতে আপত্তি কোথায়! উত্তমকুমার বেশ শক্ত মাটি তৈরি করে ফেললেন বাংলা চলচ্চিত্রে। এইসব ছবিগুলি গল্পে, গানে এবং নির্মাণের বিশ্বাসযোগ্যতায় দর্শককে যেমন স্পর্শ করছে, ঠিক তেমনি এসব কিছুর সংমিশ্রণকে নিচে রেখে উপরে ভেসে উঠছেন কিন্তু শুধুই উত্তমকুমার। এসব ছবির নায়িকারাও আলোচ্য হচ্ছেন, প্রশংসা পাচ্ছেন, জুটি তৈরি হচ্ছে, কিন্তু উত্তমই যেন প্রধান হয়ে উঠছেন ক্রমশ সব কিছুকে ছাপিয়ে।
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
তবুও নির্মোহভাবে বলা যায়, এইসব ছবিগুলিতে উত্তমকুমারের অভিনয়ে কিছুটা অতিরঞ্জনের ছাপ ছিল, ম্যানারিজমও ছিল, যা গল্পময় বাঙালি দর্শকদের আকর্ষণ করলেও কতিপয় শিক্ষিতের তাঁকে অবিসংবাদী হিসেবে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ধন্দ তৈরি করল। কারণ তখনও উত্তমকুমার পিটার ব্রুকসের ‘দ্য মেলোড্রামাটিক ইম্যাজিনেশনে’র পথে হাঁটতে হাঁটতে স্বকীয় পথ নির্মাণের চেষ্টায় অক্লান্ত। খুব দ্রুত উত্তমকুমার তাঁর নিজস্ব বৃত্ত তৈরি করে নিলেন বাংলা সংস্কৃতির বিস্তৃত ক্ষেত্রে। তাঁর অসাধারণ এক্সপ্রেশন, সংলাপ উচ্চারণের স্বাতন্ত্র্য, জোয়ারি সমৃদ্ধ কণ্ঠস্বর, শরীরী ভঙ্গি এবং সহজাত প্রতিভার সম্মিলনে তিনি নির্মাণ করলেন এক নতুন ঘরানা, যা পরিচিতি পেল ‘উত্তমকুমার স্টাইল’ নামে। উত্তমকুমারের চুলের ছাঁট, হাঁটাচলা, পোশাক থেকে শুরু করে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে রিং তৈরি করা পর্যন্ত হুবহু নকল করতে শুরু করল বাঙালি তরুণেরা। ফলত, বাংলা জয়ের আনন্দে নায়কের ইমেজ ছেড়ে এই সময়ে আর বেরোতে চাইলেন না উত্তম।
তপন সিংহের ’গল্প হলেও সত্যি’ ছবিতে দেখা যায় দুপুরের মহিলা আসরে সিনেমা পত্রিকা জুড়ে আছেন উত্তমকুমার, আর সেই বাড়িরই এলিট পুরুষটি ফিল্ম সোসাইটির প্রভাবে ত্রুফো আওড়াচ্ছেন জুত করে। অর্থাৎ মেয়েদের হার্টথ্রব হয়ে উঠছেন তিনি, কিন্তু এলিটদের কাছে যেন এলিয়ে পড়ছেন অনেকটা। গ্রাম, গঞ্জ, শহরের অল্প শিক্ষিত, সাধারণ মননের মানুষেরা তাঁকে মাথায় তুললেও, দ্বিধায় থাকল তথাকথিত এলিট বা আঁতেলরা। প্রশংসার পাশাপাশি চলছে তাঁর ছবি নিয়ে সমালোচনা! এই দেশের এই তো নিয়তি, যোগ্য প্রতিভার যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ যেন কিছুতেই যেতে চায় না এ দেশের কিছু সংখ্যক মানুষের। বলা যেতে পারে চূড়ায় ওঠবার সব রকম ইন্ধন তখন উত্তমের সামনে হাত নাড়ছে, আর তিনিও সুযোগের অপেক্ষায় আছেন নিজেকে প্রমাণ করা,। কিন্তু সুযোগ!
তপন সিংহের ‘ঝিন্দের বন্দী’র (১৯৬১) বেশ কিছু দিন পর সত্যজিতের ‘নায়ক’ (১৯৬৬)। বাংলা চলচ্চিত্রে একটা বিস্ফোরণ ঘটল যেন। উত্তমের কেরিয়ার গেল ঘুরে। বি.এফ.জে.এ. শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেলেন ‘নায়ক’-এর জন্য। পুরস্কার তো পেলেনই, তার থেকেও বড়ো কথা সব বিরোধিতা, সন্দেহ, ধন্দের অবসান ঘটালেন তিনি, সত্যিই ‘অরিন্দম’ হয়ে উঠলেন। সার্থক হল ‘নায়কে’র অরিন্দম নাম। সেই কয়েক শতাংশ বুদ্ধজীবীর সন্দেহ বা ধন্দেও পড়ল কোপ।
এরপর যত ছবি করেছেন উত্তম, প্রায় সবই হিট। তারপর এল ১৯৬৬ সাল। আর এক বাঁকবদল।
১৯৬৬ সালে ‘শঙ্খবেলা’ ছবিতে মান্না দে’র গানে (‘আমি আগুন্তুক’ ও ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’) প্রথম লিপ দিলেন উত্তমকুমার। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছেড়ে মান্না দে। প্রথমে মান্না দে-র গানে লিপ দিতে অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছেন উত্তম, কুণ্ঠিত হয়েছেন গলা মিলবে না বলে। এমনকি ছবি ফ্লপ করে যাবে এমন আশঙ্কার কবলে পড়ে বেশ তটস্থ হয়েই ছিলেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্য ছবি এবং গান দুই-ই বেশ জনপ্রিয় হল, উত্তমকুমারের চোখ খুলে গেল। প্রথার বাইরে গিয়েও যে সফল হওয়া যায় এবং তাতে শিল্পের মান ও শিল্পীর মনের উন্নয়ন ও তৃপ্তিও ঘটে বহুলাংশে, এই সত্য তাঁকে নাড়িয়ে দিল আমূল। বলা যেতে পারে এরপর থেকেই উত্তমকুমারের ছবিগুলি হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময়। নায়কের সীমানা ছাড়িয়ে খলনায়কের বৃত্তে ঢুকে আবার তা কেটে বেরিয়ে আসতে কোনো অসুবিধাই হল না তাঁর আর। ‘রাজবংশ’, ‘বাঘবন্দী খেলা’ ছবির খল নায়ককে আবার দর্শক ভালোবাসার নায়ক হিসেবে মেনে নেবে কী না, তা নিয়ে তিনি কোনো সংশয়েই পড়েননি। এতটাই আত্মবিশ্বাস তখন পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি ছকভাঙার চর্চায়। এখন আর তিনি মেয়েদের হার্টথ্রব উত্তম নন, এখন তিনি হয়ে উঠছেন অভিনেতা উত্তম। অভিনয়ের প্রতিটি স্তর, প্রতিটি আঙ্গিক, প্রতিটি ছন্দকে তিনি তখন সানন্দে চর্চা করছেন মনের গভীরে।
ফলত, এবার শুরু হল অন্য ধরনের ছবিতে অভিনয়। ছাঁচ ভাঙা অভিনয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভিনয় শুরু হল এবার। এন্টনি ফিরিঙ্গী (১৯৬৭), চৌরঙ্গী (১৯৬৮), চিরদিনের (১৯৬৯), বিলম্বিত লয় (১৯৭০), নিশিপদ্ম(১৯৭০), ধন্যি মেয়ে(১৯৭১), স্ত্রী(১৯৭২), মেমসাহেব (১৯৭২), হার মানা হার(১৯৭২), বনপলাশীর পদাবলী (১৯৭৩), বিকেলে ভোরের ফুল (১৯৭৪), আমি সে ও সখা (১৯৭৫), অগ্নীশ্বর (১৯৭৫), বাঘবন্দী খেলা (১৯৭৫), সন্ন্যাসী রাজা (১৯৭৫), আনন্দমেলা (১৯৭৬), হোটেল স্নো ফক্স (১৯৭৬), সেই চোখ (১৯৭৬), সব্যসাচী (১৯৭৭), ধনরাজ তামাং (১৯৭৮), দুই পুরুষ (১৯৭৮), দেবদাস (১৯৭৯), খনা বরাহ (১৯৮০)... এইসব ছবিগুলিতে অভিনয়ে নানা ‘শেড’ আনতে শুরু করলেন উত্তমকুমার। এইসব ছবির অনেকগুলিতেই আর সেই রোমান্টিক চাহনি, ভুবন ভোলানো হাসি বা নায়কোচিত বিখ্যাত ম্যানারিজমগুলির বহুল ব্যবহার পাওয়া গেল না, পাওয়া গেল বিভিন্ন ধরনের চরিত্রকে প্রতিষ্ঠা দেবার প্রতিজ্ঞা। গানের ক্ষেত্রেও খুব পছন্দের সহজিয়া হেমন্ত মুখোপাধ্যায় থেকে বেশ জটিল ও বৈচিত্র্যময় মান্না দে-র দিকে ঝুঁকতে শুরু করলেন উত্তমকুমার, ( এই পর্বে মান্না দে-র এত গানে লিপ দিলেন উত্তমকুমার, যে সংখ্যাটা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কেও টপকে গেল।) কখনও-বা শ্যামল মিত্র। ক্যামেরা জুম করে গানের কঠিন অংশগুলিকে ঠোঁটে ফুটিয়ে তুলতে শুরু করলেন, যে বিক্রম খুব কম নায়কই করে দেখাতে পেরেছেন। সংগীতবহুল ‘এন্টনি ফিরিঙ্গী’, ‘সেই চোখ’, ‘সন্ন্যাসী রাজা’, ‘চিরদিনের’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো ছবিগুলিতে গান লিপ দেওয়ার বিষয়ে তিনি সমগ্র ভারতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেলেন। আর তা সম্ভব হল নিজে অত্যন্ত ভালো গান গাইতে পারতেন বলে। ‘নবজন্ম’ ছবিতে তাঁর গাওয়া গান এখনও ছবিটির সম্পদ। অনিল বাগচি একবার বলেছিলেন, ‘এন্টনি ফিরিঙ্গী’র গানগুলি হারমোনিয়ামে তুলে যেভাবে উত্তম গাইছিলেন, তা মান্না দে-র মতো না হলেও, ছবিতে তাঁর গান গেলেও খুব অসুবিধা কিছু হত না।’
উত্তমকুমার অভিনীত চরিত্রগুলি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই ভাবনায় জারিত হতে হয় বেশি করে যে, তিনি বেশিরভাগ সময় চরিত্রের প্যাটার্নের মধ্যে ঢুকতেন না, বরং চরিত্রটি তাঁর প্যাটার্নে তৈরি হয়ে যেত। উত্তমকুমার কোনো রিকশাচালকের চরিত্রে অভিনয় করলে তিনি রিকশাচালকদের ভাবভঙ্গি, অভ্যাস, চর্চাকে অনুকরণ করতেন না হুবহু, কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্রটি দেখে সমস্ত রিকশাচালকেরা তাঁকে অনুকরণ করতে শুরু করে দিত। অভিনয়ের অন্তর্নিহিত নিউক্লিয়াসকে তিনি এভাবেই উপলব্ধি করে তাকে নিজের মজ্জায় এভাবেই আত্তীকরণ করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারতেন। ‘সব্যসাচী’ ছবির কথাই ধরা যাক। বিভিন্ন চরিত্রের ছদ্মবেশে তিনি অনন্য হয়ে উঠছেন এ ছবিতে। গিরিশ মহাপাত্র থেকে মারোয়ারি ব্যবসায়ী, ফাদার, চিনাম্যান... আবার সঙ্গে সঙ্গে সব্যসাচী... প্রতিটি চরিত্র একে অপরের চেয়ে দূরে দূরে চলে যায়। কিন্তু তিনি ঠিক মিলিয়ে দিয়েছেন সব কিছু। এই ছবিটির নির্মাণ উত্তমকুমারের অনেক দিক খুলে দেয়।
উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর বাংলা ছবিতে একটা সময় এসেছিল যখন হিন্দি ছবিকে অক্ষম অনুকরণ করা শুরু হল। অথচ উত্তমের সময় কত বাংলা ছবির অনুকরণে যে কত হিন্দি ছবি হয়েছে তার ঠিক নেই।
প্রবল সৌমিত্রপ্রেমী সত্যজিৎ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছিলেন, মৃণাল সেন তাঁর সম্পর্কে একটু দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও বাকি প্রায় সব চিত্রপরিচালক এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রায় সব অভিনয়শিল্পীরা একরকম তাঁর শ্রেষ্ঠত্বে শিলমোহর দিতে বাধ্য হয়েছেন। ‘ছোটি সি মুলাকাত’ ফ্লপ করলেও সে-ছবিতে উত্তমের অভিনয়, তাঁর নাচ তাঁকে অন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছিল।
তবে একথা ঠিক শেষের দিকে ‘অমানুষ’, ‘আনন্দ আশ্রম’, ‘ওগো বধু সুন্দরী’র মতো ছবিতে তিনি পুরস্কৃত ও প্রবল জনপ্রিয় হলেও এইসব ছবিতে তিনি ক্রমশ যেন পুরোনো সূক্ষ্মতাকে স্বেচ্ছায় অবজ্ঞা করছিলেন। হয়তো যুগের রুচির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ‘অমানুষ’-এ তিনি হিন্দি ছবির মতো মারদাঙ্গা শুরু করে দিলেন। অনেকগুলো পুরস্কারও জুটল, ছবিও খুব হিট করল, কিন্তু শেষ দৃশ্যের ঝলকটুকু ছাড়া আর কী-বা ছিল ছবিতে!
শেষের এই পর্বটুকু বাদ দিলে উত্তমকুমার বাকি যা কাজ করেছেন তাতে তিনি ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’। কোনো তুলনা হয় না তাঁর, হয়তো হবেও না। তাঁর স্মরণসভায় সত্যজিৎ উত্তমকুমারকে গ্রেগরি পেকের চেয়েও বড়ো অভিনেতা বলেছিলেন, বলেছিলেন, “উত্তমের মতো কোনো নায়ক নেই। কেউ হবেও না।” এই সত্যকে আমরাও মানি। তাই বলি তুলনার প্রচলিত তিন স্তরীয় মাধ্যমের তিনটিতেই শুধু তিনি, উত্তমকুমার, উত্তমকুমার এবং উত্তমকুমার।
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।



