বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর
বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৭০ সালের ৬ নভেম্বর। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের চতুর্থ পুত্র বীরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের একমাত্র সন্তান ছিলেন বলেন্দ্রনাথ। মাতা প্রফুল্লময়ী দেবী। বলেন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত রচনা ‘একরাত্রি’ নামে প্রবন্ধ, বেরোয় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী সম্পাদিত ‘বালক’ পত্রিকায়, ১২৯২ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায়। ওই বছর ফাল্গুন সংখ্যায় বেরোয় ‘সন্ধ্যা’ নামে কবিতা। বলেন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর। পরের বছর মাঘোৎসবে বলেন্দ্রনাথের লেখা গান প্রাতঃকালীন সভায় গীত হয়। বালক ছাড়াও ‘ভারতী’, ‘সাহিত্য’ ইত্যাদি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখেছেন। জীবদ্দশায় তিনটি বই— ‘চিত্র ও কাব্য’ (১৩০১, প্রবন্ধ), ‘মাধবিকা’ (১৩০৩, কাব্য), ‘শ্রাবণী’ (১৩০৪, কাব্য) প্রকাশিত হলেও তাঁর অধিকাংশ লেখা ছড়িয়ে ছিল ‘সাধনা’, ‘ভারতী’-সহ নানা পত্রিকায়। ‘চিত্র ও কাব্য’ বইয়ে কালিদাস, ভবভূতি, জয়দেবের কবিপ্রতিভা বিশ্লেষণের পাশাপাশি শিল্পকলা বিষয়ে তাঁর আলোচনা নজর কেড়েছিল বিশিষ্টজনদের। সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি স্বদেশী বস্ত্রের কারবারেও তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ঠাকুর পরিবার ব্রাহ্মসমাজভুক্ত হলেও বলেন্দ্রনাথ জীবনের শেষভাগে আর্যসমাজের সাথে ব্রাহ্মসমাজের মিলনের জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। ১৮৯৬-এর ৪ ফেব্রুয়ারি বলেন্দ্রনাথের বিয়ে হয় ইলাহাবাদের ফকিরচাঁদ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে সুশীতলা (সাহানা) দেবীর সঙ্গে। বলেন্দ্রনাথ ও সাহানা দেবীর কোন সন্তানাদি ছিল না। মাত্র ২৯ বছর জীবিত ছিলেন বলেন্দ্রনাথ, ১৮৯৯ সালের ২০ অগাষ্ট মৃত্যু হয় ‘রবিকা’-র প্রিয় ‘বলু’-র।