নির্মল হালদারের কবিতায় রাজনৈতিক সময় ও ব্যক্তিগত মানবিকতার এক তীক্ষ্ণ সংলাপ গড়ে ওঠে। ক্ষয়, বিভাজন ও দখলের বিপরীতে এখানে রয়ে যায় ভালোবাসা, মাটি ও ভবিষ্যতের কোমল আশ্রয়—যেখানে একটি শিশুর হাসিই শেষপর্যন্ত মানবতার পতাকা হয়ে ওঠে। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল পুরুলিয়ার উল্লেখযোগ্য কবি নির্মল হালদারের কবিতা।
১
শক্তি নেই।
হাতের মুঠিও শক্ত করতে পারে না।
শুধু পতাকা, পতাকার রং।
শুধু চিৎকার। শুধু কলহ।
শুধু কল্যাণমুখী পুবের আকাশ।
২
পায়ে পা মিলছে না
হাতে হাত মিলছে না
গলার স্বরে স্বর জুড়ছে না
মিছিলে মুখ আছে না কি মুখোশ
না কি আতঙ্ক?
মিছিলের সামনে নেই, আমার জাতীয়তা, আমার মানুষ।
৩
কার চেয়ার দুমড়েমুচড়ে গেল?
কার চেয়ারের সঙ্গে কার ধাক্কা?
মাটি জল হাওয়া আজও অবিকল।
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
৪
মুখের একটা ব্রণ খুঁটে দিতেই,
এক বিন্দু রক্ত।
অনেক ভালোবাসার রক্ত।
আমার কাছেই থাকবে।
মাটিতে পড়তে দেব না।
দখল নিতেও দেব না।
৫
কোনো মৃত্যু কোনো পতাকায়
মুড়তে দেব না
যে-কোনো মৃতদেহের ভাগীদার
লাল পিঁপড়েরা।
৬
প্রজাপতি এসে কাঁধে বসেছে।
একটি শিশুর কাঁধে বসেছে।
আমি কুড়াই শিশুর হাসি।
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।