এই মাস থেকে কেতাব-ই ব্লগজিনে শুরু হল ‘জেলার সাহিত্য’ নামের এক বিশেষ আয়োজন। যার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে বিভিন্ন জেলার নতুন ও পুরনো লেখকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন জেলার ভিন্ন স্বরকে একত্রিত করে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক রূপনির্মাণ। আমাদের প্রথম নির্বাচিত জেলাগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, এবং কোচবিহার। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে আমরা প্রকাশ করব এই পাঁচ জেলার সাহিত্য। আজ প্রকাশিত হল আলিপুরদুয়ার জেলার কবি ও অনুবাদক শৌভিক দে সরকার -এর কবিতা।
খসড়া তালিকার পাতা
ধরো, বৃষ্টির ফোঁটা!
ভুলের সাক্ষ্য হিসেবে বাইরে বের করে আনলে গোপনে
অচেনা একটা অপরাধের প্রমাণ
বেঁধা বড়শি হয়ে গলায় আটকে থাকল গতজন্মের নাম
গলা আটকে আরও উঁচু হয়ে কণ্ঠার হাড় চেপে ধরল কালো মেঘ
মেঘ খসে পড়ার পর সামান্য ধূসর হয় আকাশ
ওই ফাঁকা ধূসরের ভেতর কারও একটা বাড়িঘর থাকে
বাড়িঘর না লিখলে মানুষ বলেই ডাকবে না কেউ
সাকিন সাকিন, বৃষ্টির ফোঁটায় ধ্যাবড়া হয়ে যাওয়া স্বদেশ
জড়ানো কাগজ লালা দিয়ে আবার জিভের মাঝখানে
একটা বঁড়শি সরানোর জন্য ফাঁকা শ্বাসনালী
যতটা গলার ভেতর ঢুকিয়ে নেওয়া যায়
জলের ফোঁটার দাগ, নাম মুছে যাওয়া মানুষের থুতুর বুদ্বুদ
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
রাত ৩: ১০-এর কবিতা
কবে থেকে একটা চুল আটকে আছে গলার ভেতর
কবে থেকে একটা ছায়া আটকে আছে নখের ভেতর
আমি চুল গুনতে গুনতে ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপছি
আমি ছায়া মাড়াতে মাড়াতে চুলের ওপর দিয়ে হাঁটছি
জানালা ফেরত হয়ে যাচ্ছে গেরস্থালি দিয়ে
আমি ভাঙা চৌকাঠ, নোনা ধরা দেওয়াল চেপে ধরে
কথার সমুদ্র বাড়াচ্ছি, কথার মারপ্যাঁচ, কথার ফেনা উগড়ে
চেটে নিচ্ছি অহেতুক শুকনো হয়ে যাওয়া জিভ
আঙুলের শুকনো চামড়া
খুব খড়খড়ে, পিছিয়ে পড়া একটা দাগের মহড়া খুলছি। অর্ধেক নখের দাগ, খরচ হয়ে যাওয়ার পৃষ্ঠা, ঘামের ফোঁটার ভেতর যতটুকু লবণ থাকে, ততটুকু শুষে নেওয়ার স্মৃতি। মেঘ তাড়ানোর আতিশয্য নিয়ে খুলে ফেলছি ছেতরে যাওয়া দেওয়াল। আরও আরও গূঢ় হয়ে ওঠা অনর্থের দুপুর, চামড়ার ফাটল থেকে বেরিয়ে আসা হাঁ করা মাংসের সাদা, দুপুর সংক্রান্ত যা কিছু জীবনতাড়িত, ব্লিস্টার ফয়েলের রুপালি। ‘অনঙ্গ’ বলে ডাকতে ডাকতে উড়ে গেল রাস্তার পাখি। জীবন এটুকুই দেয়, বাকিটা লুকিয়ে রাখে নিজের প্ররোচনার ভেতর! কালো হয়ে যাওয়া ইরেজার দিয়ে ঘষে ঘষে তুলছি নিশ্চিহ্ন তারিখ, চামড়ার অতীতে ঢুকে যাওয়া একটা দুপুর আর ঘুমের তলানিতে ঢুকে পড়া সামান্য রুদ্ধশ্বাস।
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।