জল, স্মৃতি ও অপেক্ষার নীরব ভাষায় গড়া এই কবিতাগুলি অন্তর্জগতের গভীর স্রোতকে স্পর্শ করে। একাকিত্ব, ক্ষয়, শোক ও অনন্ত চাওয়ার ভেতর দিয়ে তারা তুলে আনে এমন এক মায়াময় অনুভব, যেখানে জলই হয়ে ওঠে স্মৃতি, আশ্রয় ও আত্মস্বীকারের আয়না। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল বাঁকুড়ার শক্তিশালী কবি জয়ীতা ব্যানার্জীর কবিতা।
১
কোথাও যাওয়ার নেই, শুধু
জলের কিনারে এসে বসে থাকা—এইটুকু সাধ
পথের পেছনে পথ, লাল ধুলো সেগুনের বন
এসবের ছোঁয়া লাগে, সাদা জল কেঁপে কেঁপে ওঠে
শাল-ফুল ঝরে তার বাঁধানো সোপানে, পাথরে, শরীরে
কোথাও যাইনি তবু, এতদিন
ছায়া ফেলে ঠায় রোদে দাঁড়িয়ে থেকেছি
আমাকে অচেনা ভেবে
পোষা হাঁস খেলা ফেলে উঠে গেছে ঘাটে
অথচ সে জানে, এই ঘন শ্যাওলার দল-ও জানে
কতযুগ আগের সকাল। মাছের কান্না দেখব বলে আমি
এসে হত্যে দিয়েছি। দুপুর এখন
ওপাড়ে কে জাল ফেলে সব মাছ তুলে নিয়ে গেল
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
২
একা একা ক্ষয় ভাঙো
দূরত্ব কমছে ভেবে আমিও আকাশে বুক বাঁধি
এই জন্ম, এই শোক তোমার শ্বাসের কাছে এসে
নিভে যায়। দুলে ওঠে অনাম্নী রাতের পড়শি
মেঘের তিলক মোছে অসময় জলে
মাথুর মধুর সম আশ্বস্ত করেছে সুজন
তার কাছে দাবি নেই। চেয়ে থাকা আছে
যে এখনও ‘প্রাণ’ বলে ডাকে
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।