preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
কথা, কথার করতলে
কবিতা

কথা, কথার করতলে

দেবনাথ সুকান্তের এই কবিতাগুচ্ছ শব্দ, স্মৃতি ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের এক অনন্য ভ্রমণ। পথিকের মতো কবি হাঁটেন প্রেম, বিষাদ, ক্ষমা ও আত্মসন্ধানের পথ ধরে। মা, রামতা যোগী, নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতে গড়ে ওঠে এক ধ্যানমগ্ন জগৎ—যেখানে বলা ও না-বলা কথার ভেতরেই জীবনের গভীর সঞ্চয় লুকিয়ে থাকে।


অনন্ত পথের যাত্রী তুমি দাঁড়াও, এখনও কুহু ডাক আনন্দ দিনের কথা বলে যাচ্ছে, এখনও মা বলে ডেকে যাচ্ছে রামতা যোগী, পুরোনো দ্রাক্ষালতার গুচ্ছ গুচ্ছ সোনালি অহংকারে বিলিয়ে দিচ্ছে নিজেকে, এক নেশা এক ঘোরতর নেশা যেমনটা দিগন্তরেখার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, এখনই লাল হয়ে আসবে চারিদিক, হাতছানি পাব, সে ডাকছে, অথচ...


প্রতিটি জন্ম আমাকে বিদ্ধ করবে, হোক সে আমার কাছে ঋণী, ছড়িয়ে পড়া শস্যকণা থেকে খুঁটে খুঁটে তুলে আনবে অবিন্যস্ত রাতের প্রেমিকা, প্রেম যেখানে আয়নার কাছে তুলে ধরছে প্রতিফলন, ছায়ার বিপরীত ছায়া যে লুকিয়ে থাকে বুকের ভিতর, অষ্টপ্রহর নামগান তার ফিতুর হয়ে গেছে কবে সে নিজেই জানে না, তবু খোঁজে আত্মভোলা রাস্তায় রাস্তায়, ফিরিয়ে দেওয়া প্রেমিকাকে ডাকে, যখনই আকাশে মেঘ করে ঘনঘোর, হ্যাঁ ওই তো দেখছি অন্য দিগন্ত থেকে কে যেন হাত বাড়িয়ে ডাকছে...

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’


নিখাদ বিষাদ তুমি আজ নির্বাসনে যাও, খাদ আর তরলতা এখন ন্যুব্জ হয়ে আছে বুকের কাছে, ছুঁয়ে দিলেই পোয়াতি হয়ে উঠবে এমনই এক মান্যতা চলে আসছে সেই কোন প্রাগৈতিহাসিক জীবন থেকে, যতদিন নদী না শুকিয়ে গেছিল সে দেবী হয়ে বিরাজ করেছে, এখন স্পর্শের কাঙাল, তাকিয়ে আছে যেন আদরে আদরে ভরিয়ে দি, খালি কাঁখে তুলে দি উজাড় করা রাত্রি, সব দুঃখ বয়ে যাবে, শুধু এক মহাপ্রস্থান রয়ে যাবে পাশাপাশি নিজেই গন্তব্য হয়ে...


প্রক্ষিপ্ত না হলে যেসব কথা সবিস্তারে চাপা থাকে, তাদের নতুন করে ফের চাপা দিলাম, চাপা দেওয়া কথা—বলার থেকে সহজ বলে চাপা দিলাম একটা কথার বীজ, বীজ থেকে বীজপত্র উঠে যাবে আকাশের দিকে, ঘুমের কাছে যে সঞ্চয় ফেলে এসেছি পাওয়া যাবে মায়ের কোলে, সেই রামতা সাধু বলেছে ঘটমান এই তো জীবন,

তুমি অবশ্য জানো কী সঞ্চয় করতে ভালোবাসি, কেন ভালোবাসি, ভালোবাসা ফেরত পাব না জানি—তাও...


সমস্ত ক্ষমার জল ওই যে বয়ে গেল, তুমি তখন দেনা-পাওনা ট্যালি করছিলে, সকালের রোদ এসে পড়েছিল আয়নায়, পায়রাগুলোর বকবকম সম্পর্কের ওম থেকে ঝরা পালক তুলে ছড়িয়ে যাচ্ছিল উঠোনে, বয়ে যাওয়া জলের সিক্ততায় কেউ আর্দ্র, কেউ রামতা, মা বলল, কীরে আজ এত সকাল সকাল স্নান করলি, কোথাও যাবি নাকি? বলেছি পুরোনো স্বপ্নের সাথে বোঝাপড়া আছে, দেখিয়ে দেওয়া বাকি আছে কত ধানে কত চাল, তাই জলে আজ শীত নেই, বরং উষ্ণপ্রস্রবণ, লীলাময় নৈবেদ্যে পাখিদের কলকাকলি...


এ জটিল অন্বেষণ তোমায় মানায় ভালো, তুমি তাও কিছু দূর এগিয়ে বুকের জমানো সব অভিমান একটা যতিচিহ্ন উজাড় করে দিলে, তারপর হেঁটে গেলে পাকদণ্ডী ধরে, সেদিন থেকেই তুমি রামতা আর আমি চন্দ্রাহত, করতলে অবিন্যস্ত রেখাদের সীমাহীন পরিহাস নিয়ে আকাশগঙ্গা পেরোলাম, মা দেখি তখনও পথের দিকে তাকিয়ে বসে আছে, যে পথ তাকে একদিন নির্বাসন দিয়েছিল, সে-ও কথা দিয়েছিল চন্দ্রাহত যেদিন রামতা হবে বা রামতা যেদিন চন্দ্রাহত, সে দুয়ার খুলে দেবে যদিও দুয়ার কোনোদিন বন্ধ হয় না, আদরে আপ্লুত সেই আলো নেমে আসবে স্ট্রিট লাইটের গা বেয়ে, যার গায়ে এখনও সন্ন্যাসের অর্থ লেখা আছে…


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

দেবনাথ সুকান্ত একজন লৌহ ইস্পাত কারখানার শ্রমিক এবং সেই শ্রমিকের চোখ দিয়েই দেখতে চান তাঁর কাঙ্ক্ষিত পৃথিবী, যা উঠে আসে তাঁর যাপিত জীবনের কবিতা এবং গল্প উপন্যাসে। গল্প-উপন্যাসের চরিত্রেরা তাঁর গহন মনের ভিতর রেখে যায় ইস্পাতের মতো দৃঢ় চেতনার সমন্বয়। তার কিছুটা তিনি লেখেন, কিছুটা জমিয়ে রাখেন কালের প্রবাহের জন্য। এর আগে লিখেছেন, ‘ছেদবিন্দু', ‘টানেলের মুখে কিছু হায়ারোগ্লিফ’, ‘এক অপরিহার্য রক্তরেখায়’, ‘অন্ধকারে এক জলস্রোত’-এর মত কাব্যগ্রন্থ, ‘রক্তাক্ত স্পর্শের আলো’-এর মত উপন্যাস। যা আসলে তার অতীতকে খুঁজে নিজেরই মুখ বার করার এক প্রয়াস। তার বেড়ে ওঠা দুর্গাপুরে। চাকরি সূত্রে ঘুরেছেন, হাজারিবাগ, বোকারো, ধানবাদ, রাঁচি আর বার্নপুর। ভালোবাসেন বই পড়তে আর বাঁশি বাজাতে।

অন্যান্য লেখা