ভণ্ডামির মুখোশ ভেদ করে মানুষ, মাটি ও মানবতার সহজ সত্যকে খুঁজে ফেরে এই কবিতাগুলি। দুঃখ, প্রতিবাদ, সম্প্রীতি ও স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এখানে একফালি চাঁদ হয়ে ওঠে আশা, আর জীবন ফিরে পায় মাদল, মাটি ও মানুষের উষ্ণ স্পর্শ। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল বীরভূমের তরুণ কবি ভুবনের কবিতা।
ভণ্ডামির গ্রাউন্ড ফ্লোর
হঠাৎ হঠাৎ তোমার নাক থেকে
খুলে পড়ে যায় নথ,
সে কী ভীষণ দুঃখ তোমার!
হারিয়ে যে যায় মানুষের শেষ সম্বল—
ঘরবাড়ি, মাটি, দেশ...
এখন তোমার দুঃখ নেই।
হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে ওঠে বাবুদের বাবুয়ানি,
সে ভীষণ অবহেলা জেগে যায় বুকে—
সেসব ধিক্কার মেরে
খাটো পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে আমরা চলে যাই
শিমুলতলা পেরিয়ে মাদলের গোঠে...
কোথাও জ্বলে ওঠে প্রদীপের আলো,
শঙ্খের নিদারুণ শব্দের কাছে
মাথা পেতে ঘুমিয়ে পড়ে দোল,
কোথাও জলের বালতি নিয়ে
উল্লাস ভাঙতে ভাঙতে
জীবনের দুঃখ গড়তে গড়তে
সকালের রোদে ছুটে যাবে কেউ সরিষার খেতে
কিংবা হাটে ত্রিপল টেঙে
কেউ মুখে নেবে বিড়ির নিঃস্ব দুঃখ...
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
মাহিয়ার হাতে চাঁদ
মা রে, আমার হাতে এই একফালি চাঁদ নিয়ে
আমি হেঁটে যাব মানুষের কাছে
যেখানে মানবতা পরম ধর্ম
আর পাখিরা ডানা মেলে
গাছের ছায়ার মতো বিশুদ্ধ ও নরম
মা রে, আমার হাতে একফালি চাঁদ,
আমি এই হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেব
ঈশ্বরের মুখ,
তারপর গহন অরণ্য থেকে পেড়ে আনব
বৃষ্টিভেজা সম্প্রীতির ফুল...
মা রে, আমার হাতে এই একফালি চাঁদ নিয়ে
আমি ফেলে আসব ঘৃণার কৌশল
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।