সংখ্যা, শরীর, প্রেম ও বিষাদের গোপন ব্যাকরণে নির্মিত এই কবিতাগুলি এক স্বপ্নময় অন্তর্জগতের দরজা খোলে। আকাঙ্ক্ষা, তৃষ্ণা, অসুখ ও অসমাপ্ত স্পর্শ—সব মিলিয়ে ভাষা এখানে হয়ে ওঠে একাধারে দহন, প্রার্থনা ও অন্তরঙ্গ স্বীকারোক্তির নীরব ক্ষতচিহ্ন। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল বাঁকুড়ার শক্তিশালী কবি অভ্রদীপ গোস্বামীর কবিতা।
১
সমস্ত সংখ্যাতত্ত্ব সমুদ্রসমান
অর্ধেক তীরবর্তী হাওয়া
অর্ধেক গভীর ও শূন্য আসমান
আমি অলীক হলুদবৃতির গভীরে
চেয়ে দেখি গর্ভকেশরের মাঝে
মৌমাছি ছড়িয়ে রেখেছে
প্রেমের গোপনে দু-একটি পুরুষ কেশর
প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে
বালিতে সংসার পেতে
জলে ধুয়ে নিয়েছি দু-হাত
কেবল বন্ধক রেখেছি
একটি হৃদয়
যাকে তুমি ভালোটি বাসিবে
কোনো একদিন...
২
রাতকে দেখব বলে একদিন উপোস করেছি
একদিন পেয়ালায় ছলকে দিয়েছি গুলাবি শরাব
একদিন মাংশাসী সেজে গুনগুন গেয়েছি আগুনে
রাত স্বর্গের একতারা। বাজানো জটিল।
প্রতিটি জন্মের কৃষ্ণগহ্বর। আমাদের একলা
সহবাসে প্রতিরাত এক অজানা ঈশ্বর
রাতকে ফালি করে ভরেছি বিষাদে
একদিন অবসাদ শেষে দরজা খুলে
কুকুরতাড়া তাড়িয়ে এসেছি রাত্রিকে...
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
৩
এই যে শরীর সারিবদ্ধ পিপড়ের গান গেয়ে
বর্ণমালার মতো কেপে উঠছে বারবার
পৌরুষের রুটি ফুলে উঠছে দুরের পাহাড়ে
ছায়াটি পশুপ্রেমী। প্রেমিকের বেতারে
আজ অজস্র নদীর সংগম। জলধারা বয়েই চলেছে
পিপাসার শেষলগ্নে এসে আমি পান করেছি
স্রেফ এক বোতল ঠান্ডা মিনারেলস...
অসময়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে অকারণে তৃষ্ণা জাগিয়ে
পিপড়ের শরীরে ভর করে আমি জাগিয়ে রাখছি
মায়াময় ডাক আর প্রথম শ্রাবণে ভেজা সম্ভাবনা
৪
তুমি হাত বুলিয়ে দিলে আমার অসুখ সেরে যায়
আমার অসুখ ছিল কি কোনোকালে! তবু মনে হয়
তুমি আর তোমার হাতের ছোঁয়ায় অসুখ সেরে যায়
শ্যাওলা জমিয়ে লাবণ্য খুবলে নিয়ে গাছকে খাওয়াই
গাছ খায়। প্রেম ভরে পাতা আর ফুলগুলি হাওয়ায় দোলায়
হেসে উঠি মৌনতার করতলধরে। মৌজ করে চুল আচড়াই
আমার তরুণী বান্ধবী দুয়ার এটেছে আজ নিজের হাতে
কিছুতেই দেখবে না গোপনে দু-একটা শাশ্বত লবণাক্ত মুখ
তবু কুয়াশাছিন্ন করে দাঁড়াই তার সমান্তরাল। যদি সারে
অজস্র রোগে জর্জর আমার সামান্য অসুখ।
৫
পরমাদরে ডেকে নিচ্ছ ভালো কথা সন্তুষ্ট থেকো
নয়তো কখন দেখব বিষাদপরীর মতো এলোমেলো
ডুবে যাচ্ছ চৈত্রের শূন্যতায়। জ্যোৎস্নাও দুর্বাশা মনে হবে
পুরুষের প্রতিটি অভিযান আসলেই শিকার উৎসব
আগুন ফুরিয়ে গেলে বিস্ময় কেটে গেলে হয় সে ক্রীতদাস, নাহয় নাবিক হয়ে নৈতিক বোধ ঝেড়ে
ক্রমশ বোবা হয়ে ওঠে। আর বিবশ অঙ্গগুলি
প্রতিটি কোণে কোণে আঙরা হয়ে পোড়ায় সেই ছদ্মপ্রণয়। তখন আপত্তি নেই জৈব দুর্যোগেও...
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।