অমিত আভা-র এই কবিতাগুলিতে নীরবতা, স্মৃতি, সময় ও আত্মঅন্বেষণ এক সূক্ষ্ম বুননে ধরা দিয়েছে। শ্রমণের প্রশ্ন, অবশিষ্ট নৈঃশব্দ্য, নববর্ষের নবজন্ম আর শীতের হারানো উষ্ণতা—সব মিলিয়ে এখানে জীবনের ক্ষয়, পুনর্জন্ম ও অন্তর্লোকের মৃদু আলোকরেখা এক গভীর কাব্যিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
শ্রমণের পাঠ
কতটা নত হলে
অহং ছাড়ে হাত—
এই প্রশ্নেই শুরু,
এই প্রশ্নেই শেষ।
বুদ্ধ সামনে,
পেছনে ব্রাহ্মণের ছায়া—
পা এগোয়,
সংস্কার টানে।
প্রতিদিন বুকের ভেতর
একটুখানি আসে আলো,
নাম নেই,
অবতারও নেই।
আলো চলে গেলে
আমি আবার যাযাবর—
কাঁধে অনেক প্রশ্ন,
গায়ে রহস্যের পুরোনো চাদর।
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
অবশিষ্ট
দেয়ালে ঝুলে থাকে সময়,
কাঁটার কোনো কাজ নেই।
হাঁটছি—
পথ আছে, গন্তব্য নেই।
শব্দ মুখ খুলতে চায়,
কিন্তু অর্থ আগেই ক্লান্ত।
শেষে পড়ে থাকে
এক টুকরো নীরবতা—
নববর্ষ
পুরোনো ক্যালেন্ডারের পাতায়
ধুলো জমে থাকা দিনগুলো
আজ হঠাৎ হালকা হয়ে যায়।
এক ফোঁটা রোদ
অভিমান ধুয়ে দেয় জানালার ধারে,
মনের কোণে গজায়
নতুন বিশ্বাসের ঘাস।
ভাঙা ঘড়ির কাঁটা থেমে যায়,
সময় আবার শিখে নেয় হাঁটা—
শীতের স্মৃতিচিহ্ন
ঘরের ভেতর
একটি পায়রা উড়ে গেলে
শীত নেমে আসে দেওয়ালে।
কাঁধে কাঁধে হাঁটার রাস্তা
এখন ফাঁকা—
ডিসেম্বর হাত গুনে রাখে।
একদিন
কার সাথে দাঁড় করিয়েছিলাম
সে স্মৃতিও নাম হারায়।
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।
Amitabha CHAKRABORTY
40 মিনিট আগেধন্যবাদ