জ্যোৎস্নাধোয়া আঙিনা, পলাশবনের আগুন, শয্যার ভস্ম আর দ্বিধাহীন পুনর্জন্ম—এই কবিতাগুলি স্মৃতি, শরীর ও অন্তর্জাগতিক দহনকে এক রহস্যময় ভাষায় ধারণ করে। জন্ম-মৃত্যু, বিদায় ও আত্মউন্মোচনের ভেতর দিয়ে তারা নির্মাণ করে এক গভীর, মরমি এবং অনিবার্য সৌন্দর্যের ভূগোল। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল পুরুলিয়ার কবি অচিন্ত্য মাজীর কবিতা।
আঙিনা
জ্যোৎস্নায় ধুয়ে যাওয়া আঙিনাটির দিকে তাকাই
তৃষ্ণার্ত একজন পেয়েছিল কমলা পাথরের বীজ
নীল শিকড়ে ঘেরা বাতায়নে অপাপবিদ্ধ মুখ
সঞ্চিত প্রবালের কোষে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে রয়েছ
প্রতিহিংসা নেই আত্মপরায়ণ বিস্মৃতিও নেই
চাঁপা গাছের অনেক নীচে অনার্য বালকের হাতে কুঠার
কোথায় রেখেছ হাড়? বিদায়ের শেষ আঁচড়?
মায়ের ছেঁড়া শাড়ি রামধনু হয়ে আকাশে মিলিয়েছে
প্রস্ফুটিত
স্তম্ভিত, স্তব্ধ হয়ে ওঠো নাড়ির সুষমাটির পাশে
এই কালো রাতে গর্জনহীন বিকিরণ নিয়ে
শৈশবের পবিত্র আভায় নিজেকে দীর্ণ করলে তুমি
যেহেতু সন্তান আমি, গভীর রহস্যের ম্যাজিক
অঙ্গার ছুঁয়ে জানব
আর ঈষৎ চঞ্চলতা
লোকালয় নেচে ওঠে মন্দিরের বিষণ্ণ ঘন্টায়
এবার সময় হয়ে এল, রূপের অন্বয় ভেঙে
তোমার অভিজাত আহুতির কাছে স্নাত হোক শরীর
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
শয্যা
ভস্মীভূত হও। পলাশ বনের আগুনে এই ফাগুন দিনে
চিতাশয্যা প্রস্তুত। তুমি প্রসবিনী
সমস্ত কুঞ্চন খুলে যাবে
আবির উড়ছে, বিদায়ের ভোরে পদ্মগন্ধ ঘেরা পথে
আবার ধূসর কূট পলাশের রঙে প্রখর হয়েছে
অবলুপ্তি জানি না, স্মৃতিটুকু জমিয়ে রেখেছি
এই মূলতানি মাটি এই জ্যোৎস্না তুমি আরও সৌন্দর্যে খর হও
নবীন শ্বেত পদ্মে উপাসনাহীন স্বচ্ছ ধূপ
কেমন প্রমত্ত আর মগ্ন হয়ে ব্যুহ রচনা করেছে
দায়বদ্ধতা নেই, ভস্মের আরক শুধু উজ্জ্বল
অনাসক্ত শরীর রাত্রিবোধে দগ্ধ হয়ে মরমি হয়েছে
দ্বিধাহীন
একটি অন্যতর ভোর থেকে পুনরায় রাত্রিপূর্ণিমার দিকে যাওয়া
ঈষৎ অবনমিত ফুলটির গূঢ়তার কাছে যাওয়া
সেই অন্ধত্ব, বালিকার হাসিটিকে মাড়িয়ে যেদিন
ছাপোষা আমার সমস্ত তল শুষে নিয়েছিল
মহাদ্রোহী জলনূপুরের গুঞ্জনে আড়াল করেছিল গুল্মের ধ্বনি
যে জীবন বিকিয়েছে অনুতাপহীন নিরুত্তরে
সেই স্খলিত আঁধারের ভ্রূণে আবার গজাবে শিকড়
মাটি আর আকাশের উৎসবে ধূপ জ্বালিয়েছি দ্বিধাহীন
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।