preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
ভোগ লালসা পরম ধর্ম
গল্প

ভোগ লালসা পরম ধর্ম

এই মাস থেকে কেতাব-ই ব্লগজিনে শুরু হল ‘জেলার সাহিত‍্য’ নামের এক বিশেষ আয়োজন। যার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে বিভিন্ন জেলার নতুন ও পুরনো লেখকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন জেলার ভিন্ন স্বরকে একত্রিত করে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক রূপনির্মাণ। আমাদের প্রথম নির্বাচিত জেলাগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, এবং কোচবিহার। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে আমরা প্রকাশ করব এই পাঁচ জেলার সাহিত্য। আজ প্রকাশিত হল জলপাইগুড়ি জেলার গদ্যকার রৌনিক রায়-এর গল্প।

ব্রিজের ধারে দাঁড়িয়ে নিচে ঝাঁপ দেবার কথাই ভাবছিল সে মনে মনে, জায়গাটা অন্ধকার, সেখানে এখন তেমন লোকও কেউ রাতের বেলা হলে পরে, এমনকি সন্ধের অন্ধকার একটু গাঢ় হলে পরেই আর মাড়াতে চায় না, ফলে সেখানে অন্ধকার নামলেই বসে কিছু মদখোর নেশাখোর ছেলেপিলে আর নোংরা শ্যাওলা ধরা ব্রিজের জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে কিছু মদের বোতলের কাচের ভাঙা টুকরো এবং কিছু ইঞ্জেকশানের সিরিঞ্জও, রেলিঙের গায়ে অজস্র আরশোলা গিজগিজ করছে, একে অন্যের গায়ে চড়ছে, ঘোরাঘুরি করছে, ব্রিজের আগ্যে নানা জায়গায় পানমশালার দাগে ভরতি আর পেচ্ছাপের গন্ধে ম-ম করছে, ঝিঁঝিদের কীর্তন আর ব্যাঙেদের কনসার্টের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভাবছিল সে তখন—কী করবে বা কী করা শ্রেয়, কারণ সে যা করে এসেছে তাতে করে মরা ছাড়া তার আর কোনো গতি নেই এটাই ভাবছিল সে সমানে, তার পায়ের কাছেও হঠাৎ থপ করে কী একটি লাফিয়ে উঠল, অন্ধকারে সয়ে যাওয়া চোখ নিয়ে সে দেখল সেটা এক বিশাল ব্যাঙ, একটা কালো বাদুড়ের উড়ন্ত ছায়া অনেকক্ষণ ধরে সেই জায়গা দিয়ে ওড়াউড়ি করতে করতে শেষে তার একেবারে মুখের সামনে দিয়ে ধাঁ করে উড়ে চলে গেলে কিছুটা চমকে উঠেছিল সে, সেখানে সেই সময় ধারে দাঁড়িয়ে নিচে ঝাঁপ দেবার জন্য যে সাহস সেটা সে মনের মধ্যে সঞ্চয় করার চেষ্টা করছিল আধো অন্ধকারে, কিন্তু কিছুতেই পেরে উঠছিল না, হাঁটু থেকে পায়ের আঙুল অবধি থরথরিয়ে কাঁপছিল, পাশে কিছুটা তফাতে বসে মদ গিলতে থাকা কিছু ছেলেপিলেদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠল তাকে উদ্দেশ্য করে, “কী দাদা, ঝাঁপ দেবেন নাকি?” বাকিরা হালকা হেসে উঠল, সে তাদেরকে লক্ষও করেনি, কিন্তু “কী দাদা” ডাক শুনে একটু চমকে উঠেছিল ঠিকই, ততক্ষণেও সে ঝাঁপ দেয়নি, ইতিমধ্যে তার কাছ থেকে টাকাপয়সা কিছু পাওয়া যেতে পারে এই মনে করে ওরা সকলে মিলে উঠে একেক পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল তার দিকে টলতে টলতে।

সেই ব্রিজের ওপর সে গিয়েছিল একটি গলিতে যাওয়ার পর, সেই ব্রিজে যাওয়ার পূর্বের ঘটনার দিকে যদি তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখা যাবে সেখানে সেই গলিতে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে ছেলেটি দূর থেকে ঠাহর করেছিল নিজের বাপকে, সে লোকটা নোংরা কালিঝুলিতে ভরতি গরম গুমোট দোকান ঘর থেকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বিবশ বিরস একটা মুখ নিয়ে একটু বাইরে বেরিয়েছিল ধারে কোথাও গিয়ে শুধু একটু পেচ্ছাপ করবে বলে, একটু পরে নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাবে; নিজের বাপের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে শুধু দূরে গিয়েই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে ছিল ইতস্তত করতে করতে, তবে তার বাপ যে নিজে থেকেই বেরিয়ে আসবে তা সে ভাবতে পারেনি, নিজের বাপকে এরম ক্লান্ত পরিশ্রান্ত এর আগেও যে সে দেখেনি তা নয়, কিন্তু আজকে নিজের বাপকে এভাবে দেখে কে জানে কেন, তার নিজের বাপের ওপর খুবই করুণা হল, মনে মনে সে ভাবল, সে একটু আগে যে একটা সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে সেটা কখনও তার বাপ জানলে পরে কী হবে, লোকটা কীভাবে কতটা ভেঙে পড়বে, আহত হবে মনের ভেতর, তার থেকে তার নিজেরই মরে যাওয়া ভালো… এইসব। সে যেখান থেকে তার বাপকে দেখছিল, সেখানে সরু রাস্তার উলটোদিকের ধার দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়েও তার বাপ তাকে লক্ষ করেনি, নজরে আসেনি, নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিল তার বাপ, সেটা তার ভাগ্য বলতে হয়, খুব মায়া ভরে সে তখন নিজের বাপকে দেখছিল। মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত যন্ত্রণা মোচড় দিয়ে উঠেছিল ঠিকই তখন তার, পেটের ভেতরেও ভয়ের চোটে একটা অদ্ভুত মোচড় মাঝেমধ্যে দিচ্ছিল, সাবধানে তখনও সে নিজের এক হাত দিয়ে উলটো করে পরা জামার সেই এক বিশেষ জায়গাটাকে কায়দা করে ঢেকে রেখে দাঁড়িয়েছিল, যাতে সেটাতে যে রক্তের দাগ লেগে আছে কেউ সেটা দেখতে না পায়।

সেরকম করে নিজের জামার সেই বিশেষ জায়গাটিকে সে তখনও ধরে ছিল যখন সে লোকে লোকারণ্য রাস্তার মধ্যে দিয়ে ভয়ে ভয়ে খুব সন্তর্পণে আস্তে আস্তে করে হাঁটছিল সেই গলিতেও পৌছোনোর আগে, কারু পেট নামলে পরে তারা যেভাবে হাঁটে, তাকে তখন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখলে পরে যে কেউ বলতে পারত খিল্লি করে যে সে সেভাবেই হাঁটছে, বা বৃদ্ধরা যেভাবে কিছুটা ঝুঁকে হাটে আর কি, অনেকটা সেই চালে হাঁটছিল সে কারণ জামার সেই বিশেষ জায়গাটাকে লোকের নজর থেকে বাঁচিয়ে চলতে হচ্ছিল তাকে হাত দিয়ে ঢেকে এবং নজরও রাখতে হচ্ছিল কেউ সেদিকে দেখছে কি না, হঠাৎ করে কিছু অদ্ভুত চিৎকার শুনে সে দাঁড়িয়ে চমকে উঠেছিল এবং কিছু মুহূর্তের জন্য হলেও হাতটা বেকায়দায় সেখান থেকে সরে গেছিল ঠিকই, কিন্তু তেমন কেউই তার জামার ওপর নজর করেনি, জামাটা তা ছাড়া উলটো করে পরে থাকায় অন্য পিঠে লেগে থাকা রক্তের দাগটা অতও ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছিল না, আর চিৎকারটাও করেছিল একটা পাগল গোছের লোক, প্রথমে একটু আস্তে, তারপর বেশ জোর গলায় “বানসোদ!", এই বলে পর পর দু-বার চেঁচিয়ে উঠেছিল সেই পাগলটা হাততালি মারতে মারতে, গায়ে একটা ছেঁড়াফাটা জামা, গালে উসকোখুসকো দাড়ি, গায়ের রং ময়লা, নিচে ময়লা লুঙ্গি পরা, পা-দুটো কেমন বাঁকানো, সেভাবেই সে দাঁড়িয়েছিল এবং হাঁটছিলও, ছেলেটির মতো আরও অনেকে চমকে উঠেছিল পাগলটির চিৎকার শুনে, পরে ছেলেটির আবার খেয়াল হলে পরে তড়িৎ গতিতে নিজের জামার সেই অংশবিশেষকে ঢেকে ফেলেছিল সেই একই কায়দা করে নিজের হাত দিয়ে, এবং আবার সেই একই চালে হাঁটা দিয়েছিল, তবে এবারে উত্তেজিত হয়ে পড়ায় একটু জোরে হাঁটছিল সে।

আরও আগে যদি ফিরে যাই, তাহলে পরে ফিরে যেতে হবে একটা পাঁচিল ঘেরা জংলা মতো জায়গায়, সেখানে একটা মাটির ঢিবির বা টিলার ওপরে পড়ে ছিল তখন ছেলেটির সেই বন্ধুটির লাশটা, যার পেটে তখনও ঢোকানো ছিল কাচের বোতলের সেই ভাঙা অংশটা, আর বন্ধুর শবদেহের পাশে থরথরিয়ে কাঁপছিল তখন সেই ছেলেটি, আশপাশে তখন কেউ নেই গুটিকয়েক জোনাকি আর ঝিঁঝি ছাড়া, সে যে একটা সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছে তখন ভুলবশতই, তা উপলব্ধি করতে পেরে এবং এক বার ধরা পড়লে তার কী পরিণাম হতে পারে তা কল্পনা করেও তার হাত পা সব একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল, পুলিশের কাছে তো আর ভুল করে হয়ে গেছে এইসব কৈফিয়ত দিয়ে কোনো লাভ হবে না, নিজের পাতলুনে প্রায় হিসুই করে ফেলত তখন সে ভয়ে, জায়গাটা নির্জন, দূর থেকে একটা বহুতল পুরোনো জরাজীর্ণ সরকারি কোয়ার্টার বাড়ির চূড়া দেখতে পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকেও তখন কেউ সেই জমিটার দিকে দেখছিল না, পেচ্ছাপের গন্ধে ম-ম করা সেই পাঁচিলের উলটোদিকের সেই সরু রাস্তাটাও তখন একেবারে নির্জনই থাকে, শুধু রাস্তার উপর থাকা হলুদ হ্যালোজেনের আলোয় কিছুটা আলোকিত ছিল সেই রাস্তা আর সেই নির্জন জমির সেই জায়গা তখন, যেখানে সেই এক গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, ছেলেটা শেষমেশ অনেক কষ্টে মাথা ঠাণ্ডা করে লাশের পেটের ভেতর থেকে বোতলের সেই ভাঙা অংশ টেনে বের করে নিল প্রথমে অপর সেই ছেলেটি যে সত্যিই মরে গেছে তার ব্যাপারে আরও এক বার নিশ্চিত হওয়ার জন্য, না, বের করা সত্ত্বেও লাশের মধ্যে কোনোরকম নড়নচড়ন দেখা গেল না, কিন্তু তা সত্ত্বেও আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য সেটার ধারালো রক্তাক্ত দিকটা কাঁপা কাঁপা হাতে তুলে ধরল লাশের গলার কাছে, এবং প্রথমে ইতস্তত ভাব থেকে সেটাকে লাশের গলার কাছ থেকে সরিয়ে নিলে পরেও পরে আবার একইভাবে সেটা গলার কাছে ধরে ঘ্যাঁচ করে টান মেরে গলাটা চিরে দিল, রক্ত বেরিয়ে এল, যদিও লাশের কোনো নড়াচড়া দেখা গেল না এবারেও, তার গায়ে হাত দিয়েও তারপর দেখল সেই ছেলেটি, গা-টা ঠাণ্ডা এবং শক্ত আড়ষ্ট হয়ে গেছে বেশ কিছুটা ইতিমধ্যে, তার মানে এ একেবারেই মরে গেছে, তারপর তার হাতে ধরা ভাঙা বোতলের সেই টুকরো যা দিয়ে কিনা খুন হয়েছিল সেটাকে সে তুলে নিয়ে গিয়ে সেই জমির কাছাকাছিই একটা ছোট্ট পুকুর মতো জলাভূমির মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিল, তারপর সেখান থেকে চুপচাপ বেরিয়ে এল সেই নির্জন রাস্তায় হলুদ হ্যালোজেনের আলোর শাঙ্কবাকার ত্রিমাত্রিক কোণের মধ্যে, জামার মধ্যে লেগে থাকা রক্তের দাগ পুকুরের জল দিয়ে অনেক ডলার পরেও রয়ে গেছিল, ফলে জামাটাকে খুলে উলটো করে পরে নিয়েছিল সে তখন, এবং তারপর সাবধানে আশপাশ দেখে নিয়ে সেই জায়গা থেকে পালিয়ে গেছিল।

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

আরও আগে যদি যাই, তাহলে দেখব যে সেখানে সেই জমিতে সেই জায়গায় তারা দু-জনে বসে মনের আনন্দে প্রাণ খুলে গল্প করছিল, এবং তাদের সেই আড্ডার মূল বিষয় ছিল তারা কীভাবে কী করে একটি মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে কী কী ভাবে তাকে ধর্ষণ করবে, এবং তারপর তাকে মেরে ফেলে দেবে, সেই মেয়েটির ছবি ছিল তার সেই অপর বন্ধুর ফোনে, মেয়েটিকে অনেকদিন ধরেই তার সেই বন্ধুটি নজর করছিল, এবং তার পুরোপুরি ইচ্ছে এবং পরিকল্পনাও ছিল যে সেই মেয়েটিকে কোনো এক সুযোগে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করবে, সেই আলোচনা যখন তারা দু-জনে করছিল, তখন তারা দু-জনেই মদের ঘোরে থাকলেও, তারা যে আসলে কী ধরনের কথাবার্তা বলছিল, তা তারা দু-জনেই খুব ভালো করেই বলার সময়েও বুঝতে পারছিল, এবং তাই নিয়ে তাদের কারোর মধ্যেই কোনো ঘেন্না বা অনুশোচনাও ছিল না, এমনই সহজ সরলভাবে তারা দু-জনে সেখানে বসে সেই কথাগুলো আলোচনা করছিল, এবং তারা মেয়েটির ওপর কী কী ধরনের অকথ্য অত্যাচার করতে পারে তাই নিয়ে নানা আলোচনা করছিল একেবারে মজার ছলে যেন তারা কোনো অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার নিয়ে আলোচনা করছে; তারা ভেবেছিল, মেয়েটিকে যখন বাগে পাবে তখন প্রথমে পুরো উদ্যমের সাথে তার সব জামাকাপড় একেবারে জোর করে টান মেরে ছিঁড়ে ফেলে দেবে, তাতে করে তারা তুমুল যৌন উদ্দীপনা অনুভব করবে, তারপর তার গায়ের নানা জায়গায় নখ আর দাঁত যে বসাবে সে আলোচনা তো ছিলই, তার সাথে আবার ছিল আরও নানা ধরনের বিকারগ্রস্ত আলোচনা, যেমন মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করলে পরে কেমন লাগবে, বা যদি লাইটার দিয়ে তার কান বা মুখ কিছুটা স্রেফ মজার জন্য অচৈতন্য বা অর্ধ চৈতন্য অবস্থায় পুড়িয়ে ফেলা যায় তাহলে কেমন মজার ব্যাপার হবে বা যদি দাঁত দিয়ে তার কান বা গাল কামড়ে রক্তাক্ত করা যায়, বা যদি তার যোনিতে গরম ফুটন্ত তেল বা কোনো লোহার শিক বা দুটোই একসাথে বা আগে পরে ঢেলে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তাহলে পরে সে কীরকম চিৎকার করবে এবং তাহলে পরে বেশ মজা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু এইসব নিয়ে কথা চলার মাঝখানে যখন ফট করে ধর্ম ঢুকে পড়ল তখনই তো গণ্ডগোল হয়ে গেল, কেন-না আসলে তারা দু-জনে দুই আলাদা ধর্মের থেকে আসা মানুষ, ওই এক বৃন্তে দুটি কুসুমের মতো আর কি, তবে তা সত্ত্বেও যদি কেউ কারও ধর্ম এবং তার সাথে সেই ধর্মের মেয়েদের তুলে কোনো নোংরা কথা তোলে মজার ছলেও তাহলে পরে হাজার হোক, যার ধর্ম নিয়ে কথা বলা হচ্ছে বা বলা ভালো নোংরামো করা হচ্ছে তার গায়ে তো লাগবেই, তেমনই সেই ছেলেটিও সেই মেয়েটির ব্যাপারে চটুল কথার মাঝখানে কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে এটা বলে বসেছিল যে অপর সেই ছেলেটির ধর্মের(এখানে ধর্ম কথাটা গুরুত্বপূর্ণ) মেয়েরা নাকি বেশ ‘ডবকা মাগি’ এবং খুব বড়ো ‘ছেনাল’ হয় কারণ সেই মেয়েটি খুন হওয়া অন্য সেই ছেলেটির ধর্মের থেকেই ছিল, যদিও অন্য সেই ছেলেটি নিজে থেকেই সেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করার পরিকল্পনার ব্যাপারে তাকে জানিয়েছিল, এবং সে নিজেও সেই মেয়েটিকে নিয়ে যে নোংরা নোংরা কথা বলছিল না তা নয়, কিন্তু ফট করে ধর্মের কথাটা তোলা হলে পরেই মুহূর্তের মধ্যে মদের ঘোরের মধ্যেও যার ধর্ম নিয়ে এবং মেয়েদের নিয়ে নোংরা কথা তোলা হয়েছিল আড্ডার মাঝে, তার মুখের ভাব হঠাৎ করে আস্তে আস্তে পালটে যেতে থাকল, এবং তখন সে আর আড্ডাও মারছিল না হেসেখেলে, ওদিকে হঠাৎ করে তার বন্ধু কেন অমন খেপে উঠছিল তা সে তখন নিজেও বুঝে উঠতে পারেনি, এবং তার পেছনে দেখতে গেলে পরে কোনো যুক্তিও হয় না, কারণ মেয়েটিকে ধর্ষণ করার ইচ্ছে তার সেই বন্ধুর নিজেরই ছিল, তার নিজের মধ্যে তো ছিল না, এমনকি তার সেই বন্ধুটি একেবারে পাকা পরিকল্পনাও করে নিয়েছিল যে সে কী করে মেয়েটিকে তুলবে অর্থাৎ অপহরণ করবে, তাহলে পরে হঠাৎ করে তার ধর্ম তুলে মজা করে বলা একটা সামান্য কথার ওপর এভাবে খেপে সে উঠলই বা কেন তা সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না, আর সবচেয়ে বড়ো কথা, ধর্ম নিয়ে তো সে আর কিছু বলেনি, বলেছে তার সেই বন্ধুর ধর্মের মেয়েদের নিয়ে, তাহলে পরে তার সেই বন্ধুটি যে নিজে থেকেই মেয়েটির ব্যাপারে তার সাথে মিলে এতক্ষণ ধরে নানা নোংরা নোংরা এবং খারাপ কথা বলল সে হঠাৎ করে এভাবে খেপে কেন উঠবে সেটা তার কিছুতেই বোধগম্য না হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, এবং সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের মধ্যেকার মৌখিক সেই বচসা প্রথমে মা বোন তুলে গালাগাল ও তারপর হাতাহাতিতে বদলে গেলে পরে অন্য সেই ছেলেটি নিজের মদের বোতল ভেঙে ফেলে সেই ভাঙা অংশটি দিয়ে রাগের মাথায় তাকে আক্রমণ করতে গেলে সেই হাতাহাতির মধ্যেই সেই ভাঙা বোতল অনিচ্ছাকৃত গিয়ে উলটে বিঁধে যায় খেপে ওঠা সেই ছেলেটিরই নিজের পেটে, এবং সেখান থেকে তার মৃত্যু, যখন তা হল তখন তা দেখে তো একেবারে ভয় পেয়ে গেছিল বেচারা ছেলেটা, তার সেই বন্ধুর মৃত লাশ পড়ে রয়েছে তার পাশে যা কয়েকবার কোঁকিয়ে ওঠার পর একেবারে শান্ত হয়ে গেছিল, ওই সিনেমা সিরিয়ালে যেরম দেখায় আর কি, এবং সে আতঙ্কিত মুখে এবং মনে কিছুক্ষণ শুধু কাঁপতে কাঁপতে নিষ্পলক তাকিয়েই থাকল নিজের বন্ধুর লাশের দিকে। তার পর একটু ধাতস্থ হয়ে এলে পরে সে কী কী করেছিল, তা আমরা আগেই জেনেছি, প্রমাণ লোপাট করতে সেই ভাঙা বোতলের অংশ এবং তার সাথে নিজের মদের বোতলটিকেও সেই পুকুরের নোংরা ঘোলাটে জলের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল সে, এবং তারপর সেখান থেকে আর দেরি না করে পালিয়ে গেছিল।

আরও কিছুটা এগিয়ে গেলে পরে অতীতের দিকে, দেখা যাবে, সেই ছেলেটি যার হাতে ভুল করে হয়ে গেল খুন, সে একটি মদের দোকান থেকে কয়েকটা মদের বোতল কিনে সেগুলো নিয়ে দু-হাতে এমনিই ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে নিজের বুকের মাংসল পিণ্ডটা দিয়ে এক মহিলা ছেলেটির কনুইয়ে আঘাত করে নিজেই “ওব্বাবা!” বলে চমকে উঠল, ছেলেটির মুখ থেকে নিজের অজান্তেই অভ্যাসবশত “সরি” বেরিয়ে এল, মহিলাটি ছেলেটিকে একঝলক তিতিবিরক্ত নজরে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বিরক্ত চেহারা নিয়েই নিজের কাজে গেলেন, ছেলেটির মুখ থেকেও মহিলা পেছনে ফিরতেই একটা কাঁচা খিস্তি চাপা স্বরে বেরিয়ে এল, নিজে ধাক্কা মেরে আবার ছেলেটির দিকে এমনভাবে তাকাল যেন সে কোনো খুনি, নিজের মনে মনে বলে উঠেছিল ছেলেটি; তার হাত থেকে যদি মদের বোতলগুলো পড়ে যেত তাহলে ছেলেটি সেখানে একেবারে বাওয়াল লাগিয়ে দিত, তবে সত্যি বলতে, সেই মহিলার বুকের ছোঁয়ায় সে একটু মজাও পেয়েছিল বটে, যাইহোক, আবার করে নিজের মনে হাঁটতে থাকল সে, তার বগল থেকে বেরোনো সুগন্ধি আতর আর গায়ের ঘাম মিশে তৈরি সেই উৎকট পরিচিত গন্ধটা তার নিজের নাকে মাঝেমধ্যে এসে লাগছিল, এখন যে গন্ধে তার এবং তার বাড়ির সব লোকেদেরও অভ্যাস হয়ে গেছে, বোতল দুটো বগলদাবা করে চলল সে নিজের মনে নিজের বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য।

তার আগেও যদি ফিরে যাই, তাহলে পরে দেখব, যে একটা বেশ সুন্দর ঝরঝরে বিকেল, আকাশে হালকা কমলা ও গোলাপি মেশানো একটা আভা লেগে আছে, দেখে মনে হয় যেন-বা দিগন্তে আগুন লেগেছে, সেই ছেলেটি যে এখন সেই ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করছে এবং তার দিকে সেইসব মাতাল ছেলেগুলো এগিয়ে আসছে, সে তখন অতীতের সেই সময়ে খাওয়াদাওয়ার পরের বিশ্রাম সেরে নিয়ে উঠে জামা পালটাচ্ছে বাইরে বেরোবে বলে, নিজের দোকানের থেকেও ছোট্ট ও মলিন জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়া একটা ঘরের বিছানায় শুয়ে থেকে রোজকার মতো নিজের অন্ন ধ্বংস করা অকর্মণ্য অপদার্থ ছেলের বাউণ্ডুলে নিষ্কর্মা স্বভাবের জন্য তাকে গালাগাল করছে তার বাপ, এবং তারপর দেখা যাবে ছেলেটি সেসবে কোনো আমল না দিয়েই রোজকার মতো বাড়ি থেকে ক-টা টাকা হাতে করে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

সত্যি বলতে গেলে পরে, না বেরোলেই বোধহয় ভালো ছিল, অন্তত এরম একটা সর্বনাশ হয়ে যেত না। এই ধর্ম, এই যত নষ্টের গোড়া, এর চেয়ে ভোগ লালসা ঢের ভালো, অন্তত সেখানে এতসব ধর্ম জাতপাত মাথায় থাকে না, শুধু একতাল নরম তুলতুলে মাংস থাকে; সত্যি, এই ধর্মই যতসব নষ্টের গোড়া, ভালোই গল্প করছিল নিজেদের লালসা নিয়ে তারা দু-জনে বসে, মাঝখান থেকে শালার ধর্ম ঢুকে পড়ে যে কী থেকে কী হয়ে গেল…।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। শিক্ষাজীবন ও বড়ো হয়ে ওঠা শিলিগুড়িতে। বর্তমানে কোনো পেশার সাথে যুক্ত নন। 

অন্যান্য লেখা