ছুঁচ, বেদানা, শহর—এই তিন প্রতীকের ভিতর দিয়ে শর্মিষ্ঠার কবিতাগুলি নির্মাণ করে এক অদ্ভুত নগর-স্বপ্নভঙ্গের দৃশ্যপট। ভয়, স্মৃতি, ক্ষমতা ও বিস্মৃতির সূক্ষ্ম খোঁচা বারবার ঢুকে যায় শরীর ও ভাষায়। তীব্র ইমেজে ভরা এই কবিতাগুলো সমকালীন শহরের অস্বস্তি, ব্যঙ্গ এবং নীরব প্রতিরোধের এক ঘন কাব্যভূমি তৈরি করে।
আমাদের এ শহরটা বরাবর
গহন নিষ্প্রভ
ভেতরে কেউ ঢোকেনি বলে
হাতেকলমে ডুমুরের রোঁয়া
জানা যায় না অতকিছু
খালি ওই রক্তাভ গা, আলো পিছলায়
ভরসা এটুকু পচবে নিজগুণে
২
নখ বসালেই সুফলা বাতাস জানি
তবু কপালের ইন্টেরিয়র নকশা পুড়ল।
হয় গাজর নয় লাঠি
দেখিয়ে এনে বসায় আরামচেয়ারে
আমার প্রতিবেশীর, প্রতিবেশীর, প্রতিবেশী অর্থাৎ আমি
কুন-ফায়া-কুন শুনি একা একা;
অন্যের হয়ে কাঁপি
বাজার, গল্পগাছা আর বটগাছের সাথে আমাদের
অমনি আর কোনো পার্থক্য থাকে না
৩
হাতের মুঠি তো
বানানোই হয়েছে ঝাঁকড়া বেদানাতরু
দেখভালের জন্য
কমলা তারাফুলের অসহ্য ফুটে থাকা যত
‘ছিঁড়ে নেব’ শাসিয়েও ভুলে গেছি; তারপর
দু-চোখে কঠোর
ভুলে যাওয়া দেখব বলে
শত শত বছর ক্রমাগত
লাভা দিয়ে গড়ছি বেদানাফুল—
এ শহরের প্রধান মশলা।
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
৪
শূন্যতার ধারণা জমিয়ে জমিয়ে অযুত লোহা ফলাচ্ছি
আর গাছেই শুকিয়ে নিচ্ছি সব রক্ত
৫
ভয়ে ভয়ে এ শহরে যখন
অগুন্তি প্রথমবার—
তখনও জানি না কে কোন ঝোপে বসার কথা
নথিতে শ্বাসকষ্ট আছে কি না!
শহরও আমার ছিন্ন নলিতে
দাঁত বসাতে গিয়ে ঘাবড়ে গেছে
৬
তালুতে ঘেঁষতে এসে বেদানাটির
প্রবাল-আগুন গা ফুঁড়ে
অসংখ্য ছুঁচ ঢুকে গেছে। আমিই ঢুকিয়েছি—
৭
কারণ শহরের গড়ন বদলে গেছে
ছুঁচের উপর আমি থাকি ছুঁচে ঝোলানো টাওয়ারে
আমার তালুতে সব ডকুমেন্ট জুড়ে
ছোটো ছোটো ছুঁচ গাঁথা
সারাদিন ধরে মনে করার চেষ্টা করি
কী যেন আমার করার কথা!
অথচ ছুঁচগুলি তুলে ফেলার কথা
ঘুণাক্ষরেও মনে পড়ে না
৮
সত্যি বলতে কী
শহরে এখন মুহূর্তে মুহূর্তে সুকুমার রায়
অ্যাকাডেমি, আদানি
তেলে ও নোবেলে উদোম
ডায়াপার পেখম
৯
অথচ ক-দিন আগেও
সে গোল চশমাখানা সবার পার্সেই ছিল!
এখন কপালে ছুঁচের ট্যাটু
ছুঁচোর সাধনা রিল মিথ্যাভাষণ রন্ধ্রে
বেদানা শহরটির ফলবতী স্মৃতি
ভুলে থাকা ক্রমে সহজ হয়
১০
বড়ো বেশি ফোটে—জানি
ইঞ্জেকশনে আজন্ম ভয়
কিন্তু বলা যায় না;
ভয় একবার,
একেবারে ভেঙে গেলে?
১১
আজকাল রোজই শহর সমাচার শুনে
‘ক্যায়াবাত্!’ বলে হেসে ফেলছি যে—
১২
ভয়ের ছুঁচেও মরচে অবধারিত
জেনে শান্ত মনে
জন্মাবে যে ঝাঁকড়া বেদানা গাছটি, তার
কোলে এসে বসি
একটা গান আশ্রয় করে বাঁচে রোজ
আমার প্রতিবেশী
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।