দেহ, লিঙ্গ, ক্ষমতা ও অস্তিত্বের সংঘাতে কুন্তল মুখোপাধ্যায়ের কবিতা এক তীব্র প্রতিবাদের ভাষা নির্মাণ করে। ব্যক্তিগত ক্ষত থেকে সামাজিক বিদ্রোহে পৌঁছে এই কবিতাগুলি প্রশ্ন তোলে দেবতা, শাসন ও প্রতিষ্ঠিত সত্যের বিরুদ্ধে। ‘জেলার সাহিত্য’ প্রকল্পে এই মাসের নির্বাচিত জেলাগুলি হল বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া। আজ প্রকাশিত হল বীরভূমের শক্তিশালী কবি কুন্তল মুখোপাধ্যায়ের কবিতা।
দেবতার বিরুদ্ধে
নিজের দু-মুঠো স্তন ছিঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হয়,
তার মন পুরুষের, জরায়ুজন্মের অভিশাপ তার, সে দেখেছে
গোধূলি বেলার দিকে হাতে হাতে তালি দিয়ে
সূর্যাস্তকে ব্যাঙ্গ করে দাঁড়িয়েছে
ছোটোখাটো হিজড়েদের দল
দেবতাকে ব্যর্থ করে দিতে হবে! যেন যুদ্ধ অসফল হয়!
শাসকদলের নেতা মুচকি হেসে হাত নেড়ে বলে
‘কী রে, এখানে কী?’
‘ভোটযুদ্ধ ব্যর্থ হবে’, এ উত্তরে
শাসকের সাঙ্গোপাঙ্গ উন্মাদ হাসিতে ভেঙে পড়ে!
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
অবলম্বন
সমস্ত নিজের দোষ, আর এই জুঁইফুলের আকাশ,
জ্যোৎস্নার মন্দ্রতা, মাথার উপরে উড়ে যাওয়া
সাদা প্যাঁচা
সমস্ত নিজেরই দোষ
উপদ্রুত অঞ্চলের আবহাওয়া উড়িয়ে দিয়েছে সুবাতাস
এদিকে পাহাড়ে যায়
নগরজীবন-ক্লান্ত মানুষেরা
পাহাড় আদর্শ নয়, তুমি ছোটো আরশোলার দিকে
কারণ ক্ষুদ্রতা টিকে যায়
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।