preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
মাটির মানুষের মেটাফিজিক্স: পর্ব ৫
ধারাবাহিক

মাটির মানুষের মেটাফিজিক্স: পর্ব ৫

ধান এখানে কেবল শস্য নয়, এক গভীর জীবনদর্শন। অন্ন, দেবতা, লোকসংস্কৃতি ও স্মৃতির জালে গাঁথা ধানের আধ্যাত্মিকতা তুলে ধরে এই প্রবন্ধ। মাঠ থেকে রান্নাঘর, নারী শ্রম থেকে লোকগান—সব মিলিয়ে ধান হয়ে ওঠে বাংলার অস্তিত্ব, বিশ্বাস ও সভ্যতার এক অনিবার্য প্রতীক। প্রকাশিত হল অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক কলাম “মাটির মানুষের মেটাফিজিক্স”-এর পঞ্চম পর্ব।

ভোরবেলায় ধানের খেতকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মাটি নিজের গোপন কথা সবুজ হয়ে ফিশফিশ করছে। শিশিরে ভেজা শিষের উপর দিয়ে হাওয়া গেলে যে দোলা দেয়, তাকে শুধু কৃষির ভাষায় পড়া যায় না। সেখানে খিদে আছে, নিশ্চিন্ত ঘুমের স্বপ্ন আছে, আবার একটা অদ্ভুত পবিত্রতাও আছে। মানুষ যে শস্যকে প্রতিদিন হাঁড়িতে তোলে, তাকে সে কেবল খাদ্য বলে ছেড়ে দেয় না; তাকে আদর করে, তাকে ঘরে ডাকে, তাকে ব্রতকথার মধ্যে রাখা হয়, তার জন্য আলপনা আঁকে, তার নামে দেবী প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এখানেই ধানের আধ্যাত্মিকতা। সুতরাং ধানের আধ্যাত্মিকতা আকাশে ঝুলে থাকা কোনো বিমূর্ত দর্শন নয়, বরং ভাতের গন্ধ থেকে জন্ম নেওয়া এক গভীর লোকদর্শন।

ভারতবর্ষে ধানের ইতিহাস তাই নিছক কৃষি-তথ্যের ইতিহাস নয়; তা সভ্যতার ইতিহাস। খুব প্রাচীন কাল থেকেই এই ভূখণ্ডে ধান চাষ, ধান ব্যবহার এবং ধীরে ধীরে ধানকে গৃহপালিত শস্যে পরিণত করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলেছে। নদী, বৃষ্টি, মৌসুমি জলবায়ু, ব-দ্বীপ আর জলাভূমি—এইসমস্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারতীয় সমাজকে ধানের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পরে পূর্ব ভারত, গঙ্গা অববাহিকা, বঙ্গভূমি, দক্ষিণের কাবেরী ব-দ্বীপ—সব জায়গাতেই ধান শুধু একটি ফসল হয়ে থাকেনি; তা খাদ্য ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতির মূল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ধানের কাহিনি একদিকে প্রাচীন চাষির হাতের কাহিনি, অন্যদিকে আধুনিক রাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তারও কাহিনি।

কিন্তু বাংলায় এসে ধান কেবল উৎপাদনের বিষয় থাকেনি; সে সংসারের ভাষা হয়ে ওঠেছে। এই বাংলায় ধান মানে শুধু জমিতে দাঁড়ানো শস্য নয়। ধান মানে গোলাভরা নিশ্চয়তা। ধান মানে নতুন চালের গন্ধে উঠোন ভরে যাওয়া। ধান মানে নবান্ন। ধান মানে শীতের পিঠে। ধান মানে অতিথি এলে ভাত চাপানো। ধান মানে ঘরে এখনও সংসার আছে—এই নীরব আশ্বাস। তাই ধান এখানে অর্থনীতির আগে আবেগ, আর কৃষিবিদ্যার আগে সংস্কৃতি।

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

এই কারণেই ধানকে ঘিরে দেবতার জন্ম হয়েছে। মানুষ যে শস্যের উপর বাঁচে, শেষপর্যন্ত তাকে দেবত্ব দেয়—এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। ধানকে ঘিরে লক্ষ্মী এসেছেন, অন্নপূর্ণা এসেছেন, কোথাও কোথাও ইন্দ্রের শক্তির সঙ্গেও চালের যোগ কল্পনা করা হয়। বাংলার ঘরে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ টানা হয় চালের গুঁড়ো দিয়ে। আলপনা আঁকা হয় চালের পেস্টে। নতুন ধান ঘরে তোলার আগে পূজা হয়। এইসমস্ত কিছুই আসলে এক গভীর সামাজিক সত্যের প্রকাশ—অন্ন কেবল খাওয়ার জিনিস নয়, অন্নকে তাই শ্রদ্ধা করতে হয়। কারণ অন্ন না থাকলে দেবতা থাকে না, ভক্তি থাকে না, সংসারও থাকে না।

লক্ষ্মীকে আমরা প্রায়ই ধনসম্পদের দেবী বলে মনে করি। কিন্তু গ্রামবাংলার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, লক্ষ্মী আসলে অনেক সময় ধানেরই অন্য নাম। যে ঘরে ধান আছে, সে-ঘরই লক্ষ্মীমন্ত। যে বাড়িতে গোলা ভরা ধান আছে, সেই সংসারই নিরাপদ। তাই ধানগাছের শিষ, গোলার শস্য, নতুন চাল—সব কিছুতেই লক্ষ্মীর উপস্থিতি কল্পনা করা হয়েছে। এই কল্পনা কোনো কুসংস্কার নয়; এটি ক্ষুধা-সচেতন সমাজের সাংস্কৃতিক বুদ্ধি। মানুষ বুঝেছে, তার প্রাচুর্য সোনায় নয়, প্রথম প্রাচুর্য শস্যে।

অন্নপূর্ণার ক্ষেত্রেও কথাটা আলাদা নয়। অন্নপূর্ণা কোনো দূরের দেবী নন; তিনি হাঁড়ি ভরা ভাতের দেবী। তাঁর মধ্যে আছে রান্নাঘরের বাস্তবতা, গৃহস্থালির শ্রম, বাঁচিয়ে রাখার শক্তি। তাই ধানের আধ্যাত্মিকতা বলতে গেলে কেবল জমির দিকে তাকালে হবে না; তাকাতে হবে রান্নাঘরের দিকেও। কারণ মাঠে ধান জন্মায় ঠিকই, কিন্তু সংসারে তার ধর্ম তৈরি করে হাঁড়িতে, কৌটোতে, চালুনিতে, বাটিতে, আগুনে।

এখানেই নারীর ভূমিকা সবচেয়ে বড়ো। ধানকে খাদ্য থেকে সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত করার প্রধান কাজটি বহুদিন ধরে নারীরাই করে এসেছেন। তারা ধান শুকিয়েছেন, বীজ বেঁধে রেখেছেন, শস্য তুলেছেন, চাল কেটেছেন, চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা এঁকেছেন, ব্রত সাজিয়েছেন, পূজার থালা গুছিয়েছেন, নতুন ধানের অন্ন প্রথম কার হাতে যাবে তা নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ ধানের আধ্যাত্মিকতা শুধু দেবীর সৃষ্টি নয়, নারীর গৃহ শ্রমেরও সৃষ্টি। তিনি না থাকলে শস্য থাকত, কিন্তু শস্যের সংস্কৃতি তৈরি হত না।

বাংলার সামাজিক জীবনে ধান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকে। অন্নপ্রাশনে শিশুর মুখে প্রথম ভাত, বিয়েতে কনকাঞ্জলি, বরণে চাল, নবান্নে নতুন অন্ন, মৃত্যুর পরে শ্রাদ্ধের খাদ্য—সব জায়গাতেই ধান ফিরে আসে। এই উপস্থিতি কাকতালীয় নয়। এর ভেতরে একটা বড়ো কথা আছে। মানুষ তার জীবনের সবচেয়ে জরুরি মুহূর্তগুলোকে ধান ছাড়া সম্পূর্ণ বলে ভাবতে পারে না। কারণ ধান এখানে কেবল খাদ্য নয়; তা জীবনের বৈধতা। যে ঘরে অন্ন আছে, সে-ঘর কখনও মরে না।

সুতরাং ধানকে কেন্দ্র করে নবান্ন এই আধ্যাত্মিকতার সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ। নতুন ধান ওঠার পর মানুষ তা সঙ্গে সঙ্গে নিজের পাতে তুলে নেয় না। আগে নিবেদন করে। দেবতাকে দেয়। পূর্বপুরুষকে স্মরণ করে। কোথাও কাকের জন্য অল্প অন্ন আলাদা করে রাখে। তারপর পরিবার খায়। এই ছোট্ট আচার আচরণের ভেতর একটা বিশাল দর্শন কাজ করে—অন্ন আমার একার নয়। আমি যা খাই, তা শুধু আমার শ্রমের ফল নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রকৃতি, পরিবার, পূর্বপুরুষ, সমাজ, এমনকি অদৃশ্য আশীর্বাদের ধারণাও। তাই ধান ভাগ করে খাওয়া হয়। সেখানেই শস্য বস্তু থেকে সম্পর্কে পরিণত হয়।

ধানকে কেন্দ্র করে লোক দেবতার জন্মও খুব তাৎপর্যপূর্ণ। টুসু তার এক বড়ো উদাহরণ। সেখানে ধান, তুষ, বীজ, জল, রোদ, মেয়েদের সমবেত গান—সব একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। টুসু যেন ফসলেরই এক কিশোরী রূপ। এইসব লোকদেবী আসলে আকাশ থেকে নামেননি। মাঠ, বীজ, শস্য, খরা, বৃষ্টি, রোদ, ফলনের আশঙ্কা—এইসব বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের জন্ম হয়েছে। অর্থাৎ দেবতা এখানে পুরাণের নয়, উৎপাদনের সন্তান।

এই জায়গাটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রায়ই ভাবি, ধর্ম মানে মন্দির, পুরোহিত, শাস্ত্র। অথচ গ্রামবাংলার কৃষি সভ্যতা আমাদেরকে অন্য কথা বলে। এখানে ধর্ম অনেক সময় গোলা ঘরে থাকে। এখানে ভক্তি অনেক সময় নতুন ধানের হাঁড়িতে থাকে। এখানে পবিত্রতা অনেক সময় আলপনার সাদা দাগে থাকে। যে চাল ভাত হয়ে মানুষের শরীরকে বাঁচায়, সেই চালই আবার মেঝেতে লক্ষ্মীর পদচিহ্ন আঁকে। এই দ্বৈততা নয়, এটাই আসল ঐক্য। খাদ্য আর পবিত্রতা এখানে আলাদা নয়।

লোকগানেও ধান তার নিজের ভাষা বানিয়ে নিয়েছে। টুসু গান, কর্ম সংগীত, ধান রোপনের গান, ধান কাটার গান—এসবের মধ্যে ধান বারবার ফিরে আসে। কখনও তা কষ্টের ছবি, কখনও অপেক্ষার, কখনও আনন্দের, কখনও প্রেমের, কখনও সংসারের। ধান কাটার গান শুধু কাজের গান নয়; তা শরীরের ছন্দ মেলানোর গানও বটে। রোপণের গান শুধু সুর নয়; তা একসঙ্গে পরিশ্রম করার সামাজিক শক্তি। এইসব গানে ধান কখনও মেয়ের বিয়ের উপমা, কখনও ঘরে ফেরা পুরুষের আশা, কখনও বৃষ্টির কামনা, কখনও অভাবের দীর্ঘশ্বাস।

বাংলা কবিতাতেও ধানের নিজস্ব এক আবহ আছে। পাকা ধানের খেত, পৌষের রোদ, নতুন চালের গন্ধ, শীতের বিকেল, গোলাভরা ধান—এসব ছবি বারবার ফিরে এসেছে। কারণ ধান এখানে শুধু শস্য নয়, দৃশ্যও। তার রং আছে, তার গন্ধ আছে, তার ঋতু আছে। কবিরা বুঝেছেন, ধানের খেতের দিকে তাকানো মানে কেবল কৃষিকাজ দেখা নয়; এক জাতির মানসিক ভূগোলকে দেখা, ইতিহাসকে স্পর্শ করা। বাংলার পাকা ধান তাই বহু কবিতায় আলো হয়ে এসেছে, সোনা হয়ে অলংকার হিসেবে থেকে গেছে বহু গানে ডাক হিসেবে পরিণত হয়েছে, বহু স্মৃতিতে শৈশবের সোনালি পটভূমি হয়ে থেকেছে।

শিশু ছড়াতেও ধানের স্মৃতি টিকে আছে। বহু ছড়ায় চাল, খই, চিঁড়ে, পিঠে, ভাত—এইসব শব্দ বারবার ফিরে এসেছে । কারণ কৃষির জ্ঞান শুধু জমিতে থাকে না; তা ভাষাতেও থাকে। মা যখন শিশুকে ছড়া শোনান, তখন অজান্তেই এক খাদ্যসভ্যতার শব্দভাণ্ডারও শিশুর মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এইভাবে ধান এক প্রজন্ম থেকে আর-এক প্রজন্মে শুধু বীজ হিসেবে নয়, শব্দ হিসেবেও চলে যায়। ফলে লোকসংস্কৃতিতে ধান একটি শস্য হওয়ার আগে এক স্মৃতি-সংরক্ষণকারী উপাদানও বটে।

ধানের সঙ্গে লোকজ উপকরণের সম্পর্কও গভীর। ধানের তুষ, খড়, শিষ, কুঁড়ো, চাল, চিঁড়ে, খই—সব কিছুরই আলাদা আলাদা করে ব্যবহার করা হয়। খড় দিয়ে ছাউনি, গবাদি পশুর খাদ্য, বিছানা, এমনকি বহু গ্রামীণ অঞ্চলে নির্মাণ কাজ হয়েছে। তুষ জ্বালানি হয়েছে। চাল খাদ্য হয়েছে। চালের গুঁড়ো আলপনা হয়েছে। খই পূজার উপকরণ হয়েছে। চিঁড়ে পথের খাদ্য হয়েছে। অর্থাৎ ধান এখানে এক সম্পূর্ণ জৈব জগৎ তৈরি করেছে। তার কিছুই অপ্রয়োজনীয় নয়। এই ব্যবহারিক পূর্ণতাও ধানের আধ্যাত্মিকতার ভিত। মানুষ যাকে সম্পূর্ণভাবে জীবনের মধ্যে টেনে নেয়, তাকেই শেষপর্যন্ত পবিত্র বলে ভাবতে শেখে।

কিন্তু ধানের কাহিনি শুধু প্রাচুর্যের নয়; হারিয়ে যাওয়ারও। একসময় বাংলায় বিপুল বৈচিত্র্যের লোকজ ধান-এর জাত ছিল। সবুজ বিপ্লবের পরে উচ্চফলনশীল কিছু জাত এসে সেই বৈচিত্র্যের অনেকটাই সরিয়ে দিয়েছে। ফলন বেড়েছে, কিন্তু নাম কমেছে। বাজার বড়ো হয়েছে, কিন্তু গন্ধ একরকম হয়েছে। এর ক্ষতি শুধু কৃষিবিজ্ঞানের নয়; সংস্কৃতিরও। কারণ কোনো ধান পায়েসের জন্য, কোনোটি খইয়ের জন্য, কোনোটি পিঠের জন্য, কোনোটি প্রসাদের জন্য, কোনোটি বিশেষ উৎসবের জন্য উপযুক্ত ছিল। জাত হারানো মানে সেইসব রীতির সূক্ষ্মতা হারানো। অর্থাৎ আমরা শুধু বীজ হারাইনি; আমরা আমাদের স্মৃতিরও কিছু অংশ হারিয়ে ফেলেছি।

এই কারণেই “মাটির মানুষের মেটাফিজিক্স”-ভাবনাটি আমাদের মনে আছে। ফলে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে মানুষ কি শুধু পেট ভরানোর জন্য চাষ করে? না কি চাষ করতে করতেই সে নিজের পৃথিবীর অর্থ তৈরি করে নেয়? ধানের দিকে তাকালে আমাদের কাছে উত্তরটা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ মানুষ ধান ফলায় শরীর বাঁচাতে। কিন্তু ধানই শেষে মানুষকে শেখায়, বেঁচে থাকা মানে শুধু শরীর বাঁচানো নয়। বেঁচে থাকা মানে সম্পর্ক রক্ষা করা, স্মৃতিকে বহন করা, দেবতার জন্ম দেওয়া, গান তৈরি করা, উৎসব বানানো, পবিত্রতার ভাষা খুঁজে নেওয়া।

তাই ধানকে ‘ফসল’ বললে তার অর্ধেক অর্থই ধরা পড়ে। বাকি অর্ধেক আছে তার শিষের ভেতর, তুষের মধ্যে, আলপনার সৌন্দর্যে, লোকগানের ভাষায়, দেবীর আরাধনাতে, মানুষের ব্রতকথায়, উৎসবে আনন্দে, নবান্নের ঘ্রাণে। মানুষ ভাত খেয়ে বাঁচে—একথা সত্যি। কিন্তু মানুষ ধানকে ঘিরে তার পৃথিবীর মানেও তৈরি করে—এই সত্য আরও গভীর। ধানের শিষে তাই শুধু দানা থাকে না; থাকে এক সভ্যতার দীর্ঘ মনস্তত্ত্ব। মাটির মানুষের কাছে ধান মানে অন্ন, আর অন্ন মানে শেষপর্যন্ত জীবনকে অর্থ দেওয়ার এক বিনীত, কিন্তু অনিবার্য প্রচেষ্টা।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

অয়ন মুখোপাধ্যায় একজন কবি, গল্পকার এবং প্রাবন্ধিক। পেশাগতভাবে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত।

অন্যান্য লেখা