প্রকাশিত হল পার্থজিৎ চন্দের কবিতাগুচ্ছ ‘জাদু-সন্ধ্যা ও অন্যান্য কবিতা’– নাম কবিতা ছাড়াও রয়েছে ‘দর্শক’, ‘রন্ধনশালা’, ‘পাগল’ এবং ‘আবিষ্কার’ কবিতাগুলি।
জাদু-সন্ধ্যা
বনপথে জাদুকর। কাটা আঙুলের পাশে বিমর্ষ ঘোড়ার শ্বাস
ঝরে পড়ছে; এরপর এক ঘাতকের ছায়া এসে
আমার গলায় চপার চালাবে, অথচ আবার
টেবিলের থেকে মাথা উঠে এসে বসে যাবে কাঁধের ওপরে
কাটা আঙুলের অভিশাপ সেই অরণ্য-প্রবাদ,
যাকে যজ্ঞবেদি ফিরিয়ে দিয়েছে বারবার
আজ জাদু-টেবিলের তলা থেকে জাদুর-ঈশ্বর,
সর্ব-শক্তিমান, উঠে এসে আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন সে-আঙুল
জাদুর ভেতর আমি পরবর্তী জাদু-সন্ধ্যার কথা ভাবি,
ভাবি কাটা-মুণ্ডু গড়িয়ে পড়ছে টেবিলের থেকে
দর্শক
ক্যাম্প-ডেভিডের রাত। তাঁবু ফেলে ফুটে আছে নীলাভ সার্কাস,
পশু-ছালে উলকি ফোটা, ‘কোনো বন্যপ্রাণীর ক্ষতি সাধিত হয়নি, শুধু
মৃত্যু-চিৎকার একটি ফ্রেমের বাইরে নীরবে রেখে প্রবেশ করুন...,’
যেহেতু ডলফিন ও সমুদ্র একযোগে বয়ে আনা অসম্ভব
তাই এই দ্বিমাত্রিক চাঁদোয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে মেধাবী জলজ;
রাতের সার্কাস। স্ক্রিনে, ঢেউয়ের ওপর স্থির ডলফিন, মাথায় রঙিন বল
ক্যাম্প-ডেভিডের কোন দিকে ছুড়ে দেবে এবং সমাপ্তির সংগীত বাজবে
সে-কথা ভাবতে-ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে অবাক দর্শক
রন্ধনশালা
রন্ধনশালার দিকে তাকালেই দেখি আগুন জ্বলছে; খিদে আর শস্যের খুনসুটি। কোনো আরম্ভ নেই; সমাপ্তি নেই। গ্রীষ্মপ্রধান দেশ, তুমি এসে দাঁড়িয়েছ দরজায়; গর্জনতেলে ঝকঝকে অন্নপূর্ণার মতো ঘামের প্রহর। তোমার মাথার ভেতর জেগে উঠছে গুহার দেওয়ালে আঁকা অতিকায় হরিণের দেহ; স্তব্ধতার গতি। আমার ভেতর নতুন চরের মতো ফুটে উঠছে বনভূমি; লাঙল-ফলার দাগ। যুগল ছায়ার থেকে যে যার নিজের দিকে উড়ে গেল জোড়া-প্রজাপতি। ওই ছায়াবিন্দুটিই রন্ধনশালা; তারও পরে নিশ্চয় আগুন আর খিদের কাহিনি আছে। সেখানেও জল ফোটে, বুদ্বুদ ঘোরে। যেন অভয়ারণ্যের কাছাকাছি কোনো অচেনা গ্রামের ইশারার দিকে বেঁকে গেছে পথ
রন্ধনশালা নিয়ে তুমিও কি একথা ভাবছ?
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
পাগল
চরাচর লতাপাতা ঢাকা ঘড়ি
মৃদু জলপান শেষে মাথা নীচু করে
এই বালিয়াড়ি তাদের পেরিয়ে যেতে হবে
যাত্রাপথে লাভা স্রোত; গন্তব্য ভূমিকামাত্র
হাঁটু গরম বালিতে পোঁতা
দুপুরে আগুন-ছুরি
জীবন্ত পশুর ছাল
ছাড়িয়ে, ঝুলিয়ে রাখছে হাওয়ার দোলনায়
আবিষ্কার
অহৈতুকী বলে কিছু নেই। রূপকথার হিংস্রতা, তারও হেতু আছে।
ভ্রমর কৌটোবন্দি প্রাণ। রাজপুত্র আসবেই, তার হাতে হত্যা শেষে
শাপমুক্তি ঘটবে রাক্ষসীর; তার আগে তাকে হাজার বছর জলের তলায়
কাহিনির মধ্যে পুরে রাখা মৃত্যুর থেকেও ভয়ংকর।
অহৈতুকী বলে কিছু নেই। আজও রেডিয়েশনে জ্বলজ্বল করছে
মাদাম কুরি-র নোটবুক। তবে
তেজস্ক্রিয়তাও আমাদের মারতে পারবে না; এই চকচকে
ডানা সব সহ্য করে নেবে। বস্তুত, এ সহ্যক্ষমতা
আমাদের কোটি কোটি বছরের ইতিহাস;
এই ইতিহাস আমাদের বিশ্বজোড়া কলোনি দিয়েছে,
এমনকী মাথা কেটে নিলেও আমরা কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারি
প্রতিদিন অন্তত একবার সেই জীবন্ত মাথাকাটা প্রাণীটির ছটফট দেখি
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখিরনিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।
Amit Mukhopadhyay
11 মাস আগেঅসাধারণ লিখেছেন পার্থজিৎ।
অর্ঘ্য দত্ত
11 মাস আগেখুব ভাল লাগল। প্রতিটিই। রন্ধনশালা বিশেষভাবে।
সিদ্ধার্থ সাঁতরা
11 মাস আগেঅন্যরকম তবে খুব ভালো লাগল।
Shirshendu Pal
11 মাস আগেসবকটা কবিতাই খুব ভালো লাগল। বিশেষ করে রন্ধনশালা
Shirshendu Pal
11 মাস আগেসবকটা কবিতাই খুব ভালো লাগল। বিশেষ করে রন্ধনশালা
Santosh Kumar Biswas
11 মাস আগেবেশ ভালো লাগলো
Dhiman brahmachari
11 মাস আগেঅসাধারণ সব লেখা। কত মায়া জড়ানো আছে। কত স্থিরতা নিয়ে শব্দরা এগিয়ে যাচ্ছে পরিণতির দিকে। আবার আরও লেখা পড়ার অপেক্ষায়।