preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
জতুগৃহ
গল্প

জতুগৃহ

জঙ্গলের রিসর্টে আগুনে পুড়ে যায় এক বন্ধুত্বের বৃত্ত, উন্মোচিত হয় কামনা, দর্শন ও ভাঙনের অন্দরমহল। ‘জতুগৃহ’ মানুষ, প্রকৃতি ও সভ্যতার সংঘাতের এক অস্বস্তিকর, তীব্র ও প্রতীকী আখ্যান। কেতাব-ই ব্লগজিনে ‘জেলার সাহিত‍্য’ বিভাগে আজ প্রকাশিত হল দার্জিলিং জেলার গদ্যকার কৌশিক জোয়ারদার-এর গল্প।

প্রথমে কিচেন থেকে কেউ একজন বেরিয়ে এসে চিৎকার করেছিল—‘আগুন! আগুন!’ তারপর দু-জন ড্রাইভার, বাগানের মালি, রিসর্টের ম্যানেজার ও আরও কয়েকজন এসে জড়ো হল। তাদের আতঙ্কিত হৃদয় ও বিস্ফারিত চোখের সামনে দাউদাউ তিনতলা কাঠের বাড়িটা জ্বলছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সামনে পেছনে উপরে। গেরুয়া শিখা লকলক করে চেটে দিচ্ছে আকাশের গা।

‘গেস্টরা কি বেরোতে পেরেছেন?’
‘না না তাদের কাউকেই তো দেখছি না!’
‘সে কী! পাঁচজনের সকলেই ভেতরে!’
‘তাই তো মনে হচ্ছে। কী হবে এখন!’
‘দোতলার পুরোটাই তো আগুনের গ্রাসে।’
‘দমকলকে খবর দেওয়া হল।’
‘ওরা শহর থেকে আসার আগেই সব শেষ হয়ে যাবে।’
‘শেষ হয়েই গেছে। হায় হায়, কেউ বাঁচবে না, বেঁচে নেই কেউই।’

বুড়ো মালি বৃথাই বাগানে জল দেবার পাইপ নিয়ে আগুনের দিকে এগিয়ে গিয়ে নেভানোর চেষ্টা করছে। একজন গিয়ে তাকে ধরে পিছিয়ে আনল। দেখতে দেখতে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল জ্বলন্ত কাঠের বাংলো। ফিঁয়াও ফিঁয়াও করে ডেকে উঠল একটা ময়ূর। হাতির বৃংহন। একটা হরিণ ছুটে এসে গাছের আড়ালে থমকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকল কয়েক মুহূর্ত। তারপর দ্রুত অন্তর্হিত হল, যেন কাউকে সংবাদ দেবে। গভীর জঙ্গলে আজ অন্যরকম রাত, খাদ্য ও খাদকেরা সবাই জেগে আছে।  

‘যৌনতা জীবনের সত্য, সন্দেহ নেই। কিন্তু একমাত্র সত্য তো নয়। পায়খানা নিয়ে তোর কোনো লেখা পড়েছি বলে তো মনে পড়ছে না। অবশ্য প্রতিষ্ঠানের মুখে তোরা হামেশাই পেচ্ছাপ করে দিস।’—লেবু ও লঙ্কা সহযোগে দ্বিতীয় পেগ ভদকার পাত্র ইন্দ্রর হাতে তুলে দিয়ে প্রবীর মৃদু হেসে কথাগুলো শুনিয়ে দিল। 
‘যৌনতা একটা ট্যাবু, যে-দেশের জনসংখ্যা একশো চল্লিশ কোটি, সেই দেশে যৌনতা নিয়ে কথা বলা নিষেধ। অন্তত সাহিত্যে তো বটেই। আমাদের প্রতিবাদ এই দ্বিচারিতা নিয়েই। তা ছাড়া যৌনতা সুন্দর।’—গেলাসে চুমুক দিয়ে ইন্দ্র জবাব দিল। 
‘সুন্দরের উপাসনা করার কথা তো ছিল না তোমাদের!’—সিগারেটের ধোঁয়ার সঙ্গে বাক্যটি বেরিয়ে এল তৃণার মুখ থেকে। তার হাতে হুইস্কির গ্লাস। 
‘কেন, আমি কি তোমার একনিষ্ঠ উপাসক নই তৃণা?’
‘এড়িয়ে যেয়ো না, প্রশ্নের উত্তর দাও।’
‘এড়িয়ে যাবার কিছু নেই। তা ছাড়া এখানে তো কেউ প্রশ্ন করে না, মতামত দেয়। সুন্দর আমাকেও টানে, আমার সৃষ্টিকেও সুন্দর করে তুলতে চাই আমি। কিন্তু আমি তোমাদের তৈরি করে দেওয়া সুন্দরের সংজ্ঞা মানি না।’
‘তোমাদের মানে?’—প্রবীর বলে ওঠে, ‘তুই কি আমাদেরই প্রতিষ্ঠানের প্রতিভূ বানিয়ে দিলি?’ হা-হা করে হেসে ওঠে তৃণা। ঝাঁট জ্বলে যায় ইন্দ্রর। কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে যায়। ঋতু আর এই আলোচনা চলতে দিতে রাজি নয়।
‘তোমরা থামো তো, প্রতিবারের মতো আবার ঝগড়া লেগে যাবে। তার চেয়ে নতুন লেখা কিছু থাকলে শোনাও।’
‘আমি কোনো গল্প আনিনি’, ইন্দ্র জানিয়ে দেয়।
‘তাহলে সুব্রত কবিতা পড়ুক। ওর অফুরন্ত ভাণ্ডার।’
‘কবিতা?’—সুব্রতর প্রশ্নে মৃদু সম্মতি। কিন্তু একবার অনুরোধেই কবিতা পড়তে সংকোচ হয়।
‘হ্যাঁ হ্যাঁ সুব্রত, কবিতা শোনাও।’—তৃণাও সমর্থন জানায় ঈষৎ জড়ানো গলায়। 
সুব্রত ওর সাদা কাপড়ের ব্যাগ থেকে কবিতার খাতাটা বার করে। কয়েকটা পাতা উলটে এক জায়গায় থামে। তারপর পড়তে শুরু করে—

‘একটা শহর ছুটতে ছুটতে জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে
ডান দিকে দেখে না, বাম দিকে দেখে না
শুধু গোঁয়ারের মতো সোজা দৌড়য়
তখন ভোরের রাস্তা আগলে কুয়াশা জমাট
যোদ্ধার ছদ্মবেশে প্রেমিকের পাগল হৃদয়
জলপাই রঙের জিপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ল হঠাৎ
আজ কী হবে কে জানে, কাল হেরে যাবে
একটা শহর ডুয়ার্স পেরিয়ে ছুটতে ছুটতে কাজিরাঙা
প্রেমিক না-হতে পারে, উন্মাদ সে-ও কম নয়’

“অসাধারণ!’—প্রবীর ও তৃণা একসঙ্গে বলে ওঠে। ‘হ্যাঁ, সত্যি ভালো’, ঋতুও সম্মতি জানায়।
‘আজকের ভোরের কথা মনে পড়ে গেল। এত কাছ থেকে গণ্ডার দেখিনি আগে।’
‘ওই সামরিক গণ্ডারের প্রেমে পড়ে গেছি আমি।’—তৃণার ঘোষণা।
ঋতু হাসে। তারপর সুব্রতর দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ওরা আমাদের খুব অপছন্দ করে, তাই না?’
‘কারা?’—প্রবীরের পালটা প্রশ্ন।
‘ওই জঙ্গলের পশু ও পাখি? আমরা ওদের নিশ্চিন্ত আবাসে হানা দিই বলে। আমরা তো ওদের কেউ না।’
‘কে বলেছে আমরা ওদের কেউ না। মানুষও তো পশু, ওদেরই আত্মীয়। আমরা কি প্রকৃতির বাইরে?’ 
‘কিন্তু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের ভাষা, আমাদের ধর্ম ও দর্শন প্রকৃতি থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আমাদের জন্য জঙ্গল কেটে বাড়ি তৈরি হয়, বীভৎস আওয়াজ করে মোটর গাড়ি ছুটে যাবে বলে অরণ্যের মাঝখান দিয়ে রাজপথ বানিয়েছি।’—সুব্রত ধীরে ধীরে কথাগুলো বলে।
‘তো? মানুষের সভ্যতা মানেই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ। তা ছাড়া বিরুদ্ধাচারণই বা বলি কী করে। প্রকৃতিতে মিত্রতা ও শত্রুতা হাত ধরাধরি করে থাকে। তৃণভোজী কি উদ্ভিদ ধ্বংস করে না? বাঘ খায় না হরিণ?’
‘কিন্তু মানুষ যেহেতু প্রকৃতি, এমনকি নিজের থেকেও একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে পারে, তার কি দায়িত্ব বেশি নয়?’
‘মানুষের ভিতরেও প্রকৃতি আছে বন্ধু। সে যেমন, সেটাই তার প্রকৃতি। প্রকৃতির ভালো-মন্দ নেই কিছু। সে নিজেই নিজেকে গড়ে তোলে, ধ্বংসও করে। তবে হ্যাঁ, মানুষের নিজের স্বার্থেই তার লোভ সংবরণ করা দরকার।’
‘দু-জনেই প্রায় একই কথা বলছ।’—ঋতু বলে এবার, ‘সভ্যতার আয়ুর স্বার্থে মানুষের আরেকটু যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।’
‘সভ্যতার কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’—তৃণা নিদান দেয়, ‘বাঁচতে যদি হয়, মানুষকে অসভ্য হতে হবে। কী বলো, ইন্দ্রবাবু?’ তৃণা ইন্দ্রর গা-ঘেঁষে বসে। একটু যেন বেসামাল। ইন্দ্র কিছু বলে না। নীরবে চুমুক দেয় গেলাসে।
‘এত গোমড়া কেন গল্পকার? রাগ হয়েছে?’—পুনরায় সিগারেট ধরাল তৃণা। ইন্দ্র সামান্য হাসে, ‘রাগ হবে কেন? তোমাদের কথা শুনছি।’ কিন্তু সকলেরই কথা কমে আসছে। হাতে হাতে মদের গেলাসে হুইস্কি ও ভদকার তলানি। ঋতু একটা গান ধরে—‘কোলাহল তো বারণ হল, এবার কথা কানে কানে।’

সুব্রত ঋতুর দিকে তাকায়। তাকিয়েই থাকে। প্রত্যুত্তরে ঋতুর ঠোঁটে নীরব মৃদু হাসি খেলে যায়। ‘মোর কাননে অকালে ফুল উঠুক তবে মুঞ্জরিয়া।’ মদ ও সুরের নেশায় আচ্ছন্ন নর-নারীর চোখে ঘুম নেমে আসে। তৃণার হাত থেকে জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরো খসে পড়ে কাঠের মেঝেয় পাতা সবুজ কার্পেটের উপর। 

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

‘আমার কথা যদি বলো, তাহলে ক্রমোন্নতির ধারণায় আমি বিশ্বাস করি না। অর্থাৎ সৃষ্টিব্যাপার ক্রমশ এক পরম চৈতন্যের দিকে যাত্রা করেছে, এতে আমার বিশ্বাস নেই। হেগেল-কল্পিত ভাববাদী ইতিহাসের ধারণা আমি প্রত্যাখ্যান করি’—এই অবধি বলে প্রবীর থামল। ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। দুর্দান্ত শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবীরের সুনাম আছে। তাই দিনের শেষ পিরিয়ডেও শ্রেণিকক্ষ প্রায় পরিপূর্ণ। 
‘স্যার, আপনি কি কম্যুনিস্ট?’—প্রশ্ন করে এক ছাত্র।
‘যদি বলো কম্যুনিস্ট মানে এই বিশ্বাস যে, শেষপর্যন্ত শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবেই, তাহলে আমি কম্যুনিস্ট নই। ওই যে বললাম, অনিবার্য প্রগতিতে আমি আর বিশ্বাস করি না।’
‘কার্য-কারণে বিশ্বাস করেন স্যার?’
‘এক রকমের কার্যকারণ সম্পর্কে অবশ্যই বিশ্বাস করি। তার ফলে যা হয়, সেটা পরিবর্তন। আমরা পরিবর্তনের ভালো-মন্দ বিচার করি, সেটা বড়োই আপেক্ষিক। কিন্তু আজ আর না। সামনের সপ্তাহে দ্বান্দ্বিক-পদ্ধতির উপর টিউটোরিয়াল নেব, প্রস্তুত থেকো।’ 
উঠে দাঁড়াল প্রবীর। ছাত্ররাও। বাইরে এসে দেখে করিডরে তৃণা অপেক্ষা করছে। ‘সপ্তাহের শেষ দিনের শেষ ক্লাসটাও একটু তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারো না?’—ওর গলায় অভিযোগ।
‘দেরি হল? ও হ্যাঁ, মাত্র কুড়ি মিনিট লেট। চলো, এবার বেরিয়ে পড়া যাক।’ অফিসে রেজিস্টার খাতা রেখে দু-জনে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসে। পার্কিং থেকে গাড়িটা বার করে প্রবীর, তৃণা পাশের সিটে উঠে বসে। আজ শুক্রবার, আবার সোমবারে ক্লাস। অবশ্য প্রবীরের ওইদিন অফ-ডে। ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে গাড়ি বড়ো রাস্তায় পড়ল। দু-কিলোমিটার যাবার পর ডানদিকে সত্যজিৎ সরণী। এই রাস্তা পেরিয়ে যেতে হয় ওদের দু-জনেরই বাড়ি। আগে তৃণাকে নামিয়ে দেবে প্রবীর, তারপর প্রবীরের বাড়ি পাঁচশো মিটার পথ। 
‘একটু বাঁ-দিকে কালীমন্দিরের সামনে দাঁড়াও তো।’—তৃণার আদেশ।
‘আজ আবার?’
‘হ্যাঁ, দাঁড়াও না, এক্ষুনি আসছি।’
প্রবীর মন্দিরের সামনে তৃণাকে নামিয়ে একটু এগিয়ে বাঁ-দিক ঘেঁষে গাড়িটা দাঁড় করাল। নিজে অবশ্য নামল না, স্টিয়ারিং-এ হাত রেখে বসেই রইল। এই মেয়েটাকে সে বুঝে উঠতে পারল না, বিদ্রোহ আর ভক্তির অভূতপূর্ব সমন্বয়। ওকে বলেওছে সেই কথা। তৃণা হাসে। 
‘চলো।’—তৃণা ফিরে আসে, ‘বেশিক্ষণ দাঁড় করাইনি তো?’
‘না না, বরং তাড়াতাড়িই হে রহস্যময়ী। তোমাকে পাথরের মূর্তির সামনে নত হতে দেখলে আমি প্রতিবারই অবাক হই।’
‘কেন? হুইস্কি আর শক্তির মধ্যে বিরোধ কোথায়? বরং রীতিমতো শাস্ত্রসম্মত।’—এই বলে তৃণা সশব্দে হেসে ওঠে। প্রবীরও। ‘হ্যাঁ, তা বটে। তা কী চাইলে মায়ের কাছে?’—সে জানতে চায়।
‘প্রতিবার বাইরে যাবার আগে যা চাই। তোমাদের সব্বার, মানে আমাদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ শেষে সুস্থ শরীরে ফিরে আসা।’
‘এতে কাজ হবে?’
‘সে তুমি বুঝবে না।’
‘কী যে এত আশঙ্কা তোমার তৃণা?’—প্রবীর যেন সস্নেহে প্রশ্ন করে।
‘তোমাদের ভালোবাসি প্রবীর। আমাদের এই পাঁচজনের বন্ডিংটাই আমার জীবন, আর তো কিছু নেই।’
‘হুম, বুঝতে পারি। চলো আমার বাড়ি, ভালো হুইস্কি আছে। আমি না-হয় পৌঁছে দেব রাতে।’
‘নাহ্, আজ থাক। কাল ভোরের ট্রেন ধরতে হবে। তুমিও তাড়াতাড়ি শুয়ে পোড়ো।’

প্রবীর আর কিছু বলে না। তৃণাকে নামিয়ে দিয়ে নিজের আস্তানার দিকে রওনা দেয়। সামান্য গোছগাছ করে নিতে হবে। আর তৃণার জন্য নতুন হুইস্কির বোতলটা।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

জন্ম মালদা শহরে। বাল্য ছাত্র ও কর্মজীবনে জড়িয়ে আছে চন্দননগর মালদা কলকাতা শিলিগুড়ি আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার শহরের স্মৃতি। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে অধ্যাপনার সূত্রে লেখক বর্তমানে শিলিগুড়ি শহরের বাসিন্দা। লেখেন কবিতা প্রবন্ধ ও গল্প। আটটি কাব্যগ্রন্থ, ছয়টি প্রবন্ধগ্রন্থ ও একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ প্রকাশিত।

অন্যান্য লেখা