preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
পশলা
গল্প

পশলা

এই মাস থেকে কেতাব-ই ব্লগজিনে শুরু হল ‘জেলার সাহিত‍্য’ নামের এক বিশেষ আয়োজন। যার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে বিভিন্ন জেলার নতুন ও পুরনো লেখকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন জেলার ভিন্ন স্বরকে একত্রিত করে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক রূপনির্মাণ। আমাদের প্রথম নির্বাচিত জেলাগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, এবং কোচবিহার। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে আমরা প্রকাশ করব এই পাঁচ জেলার সাহিত্য। আজ প্রকাশিত হল জলপাইগুড়ি জেলার গল্পকার শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়-এর ছোটোগল্প ‘পশলা’।

আলমের দিলটা আজ খুশ। তাড়াতাড়ি সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিয়ে উঠতেই হাওয়ার ঝাপটা এসে লাগে কানের পাশে। সারা শরীরে একটা শিরশিরানি আরাম খেলা করে যায়। সাইকেল চালিয়ে কিছু দূর আসতেই আরামটা আরও পেয়ে বসে। গুনগুন গান গলা বেয়ে আপনিই উঠে আসে। আলমের আজকাল সর্বক্ষণ মন ভালো থাকে। মাঠে চারাগুলোকে আলাদা তালে তুলে বুনতে বুনতে মনটা আনন্দে ভরে যায়। চকচক করে ওঠে চোখ। চিক চিক শব্দ করে থুতু ফেলে পিছন ঘুরে। আলমের রোজা চলছে। রোজার সময় প্রতিবার মাঠে কাজ করাটা দুর্বিষহ লাগে আলমের। কিন্তু এবার ব্যাপারটা আলাদা। তাই এই প্রথমবার খিদা তৃষ্ণা কিছুই বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে না তার কাছে। আজ মাঠের কাজ শেষ করে ফিরছে যখন তখন চারপাশ ঘোর আঁধার করে আসছে। এই অসময়ের বৃষ্টির লক্ষণ দেখে আলমের কপালে চিন্তার ভাঁজ এসে পড়লেও তাকে ছোঁয় না। বরং মেঘ উঠে আসার জন্য যে হাওয়া ছেড়েছে দু-পাশের ফাঁকা প্রান্তরের মাঝের মাটির চওড়া রাস্তায়, সাইকেল চালিয়ে আসার সময় সেই হাওয়াই তাকে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে। আলম একবার সাইকেল ডানদিকে মোচড় দিয়ে একবার বাঁ-দিকে মোচড় দিয়ে প্যাডেল করতে করতে ফিরে আসতে থাকে বাড়ির দিকে।

রোজা রাখবে বলে এবার সে ফিরে এসেছে কেরল হতে। সেখানে বালি তোলার কাজের চাইতে মাঠে কাজ একেবারেই আলাদা। কোন কাজটা আলমকে বেশি টানে সেটা যদিও সে বুঝতে পারে না। তবে সে জানে পারভিনকে ছেড়ে থাকতে তার মন সায় দেয় না। একরত্তি বাচ্চা মেয়েটাকে যখন শাদি করে নিয়ে এসেছিল তখন সময়টা ছিল অন্যরকম। আলম তখন রোজা কী বুঝত না। পির বাবার মাজারেও যায়নি। নামাজ পড়েনি কখনও। কিন্তু পারভিন যতই বড়ো হতে লাগল আলমের মধ্যে রোজা রাখার ইচ্ছা জন্মাল। প্রতিবারই তাই রোজা রাখার আগে ফিরে আসে গ্রামে। তখন মাঠে কাজ করে।

পারভিন এখন যুবতি। আলম দুই চোখ ভরে দেখে। তার এক সম্ভ্রমবোধ জন্মে তার প্রতি। রোজার সময় সে পারভিনকে নিয়েও ভাবতে চায় না। সে ভাববে না একথাও ভেবেছে অনেকবার। কিন্তু না, সে তাতে সফল হতে পারে না। তাই সে-সময় ভাবনা মাথা থেকে সরিয়ে আলম রোজা রাখে প্রতিবার আবার দিনভর ভাবে কেবল পারভিনের কথাই।

সাইকেল চালাতে চালাতে খেয়াল করেনি এক দু-ফোঁটা জল কখন ঝরতে শুরু করেছে। আলম এবার তাড়াতাড়ি সাইকেলটার বেগ বাড়াতে শুরু করে। দূর থেকে দেখা যায় সাদা ফতুয়া পরা এক মানুষ সাইকেল চালিয়ে মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হারিয়ে গেল রাস্তার বাঁকে।

এবার এসেই সুখবরটা শুনেছে আলম। চাচির কাছ হতে। পারভিন পোয়াতি। পারভিনকে নিয়ে তাই ভাবনা বাড়ির সকলের। আলমের চিন্তার মাত্রাটা সে নিজেও ঠিক করে বুঝে উঠতে পারে না। রোজগারপাতির চিন্তা করবে নাকি দূরে থাকার অসুবিধা নিয়ে ভাববে! নানান দিক। পারভিনকে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব, না বেশিদিন থেকে যাওয়া, সে নিজেও ভেবে কূলকিনারা পায় না।

আলম আচ্ছন্ন থাকে বাবা হওয়ার আনন্দে। অনেকবার স্বপ্ন দেখেছে সে একটা ফুটফুটে মেয়ে হাতে নিতে গিয়েই চারপাশ আলো হয়ে গিয়েছে। আর আলম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এসে দাঁড়ায় উঠোনের মাঝে। সাইকেলটা কুয়ার সঙ্গে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখে চটপট হাত-পা ধুতে থাকে। কুয়ার থেকে জল তোলে। জোয়ারের জল চলে এসেছে। অনেকটা উপুড় হয়ে জলের বালতি কুয়োয় নামাতে গিয়ে দেখে কুয়োর ভেতরে বৃষ্টির জল যে কম্পন তুলেছে জলে তাতে তাকে দেখতে লাগছে কাঁপা কাঁপা, আবছায়াময়। জল তুলে স্নান সারে আলম। বৃষ্টির মধ্যেই সন্তর্পণে লক্ষ রাখে মুখে যেন কিছু না যায়। বারবার থুথু ফেলতে থাকে।

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

আজ রোজা ভাঙার পরে আলমের গা ছেড়ে দেয়। মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে রেখে গা এলিয়ে দিয়েছে। মনে মনে ভাবছে পারভিন এসে বসেছে তার মাথার কাছে। চোখ উলটে সে দেখতে চায় মাথার দিকটায়, কিন্তু চোখ জড়িয়ে আসে, সবটাই ঘোলা হয়ে আসে।

সন্ধ্যার পরে বেশ রাত করেই আলমের ঘুম ভাঙে। উঠে রান্না ঘরের দিকে যায়। পারভিন আর চাচি দু-জনে একসঙ্গে মিলেমিশে রান্না করছে। আলোর মধ্যে পারভিনের শরীরের ভাঁজগুলো যেন আরও রহস্যময়ী হয়ে উঠেছে। আলম খানেক তাকিয়ে থাকে। চটক কাটতেই মুখ ফিরায়। পিছনের দরজার কাছে জল থইথই তখন। আলম দৌড়ে আসে। বস্তাগুলোকে চাপা দেয়। দরজাটার কাছে ফিরে যায় ঘরে। ঘরে পারভিন নেই। তার চাচির কাছে পারভিনকে রেখে কেরল যেতে আলমের বুক ফাটে। কিন্তু বলতে পারে না কিছুই। অদ্ভুত এক অস্থিরতা হঠাৎ এসে ভর করে আলমকে। দম বন্ধ করা অন্ধকার আর বৃষ্টি। তাকে মনের ভেতরে গুমরে উঠতে দেয় না কিন্তু চাপা এক আক্রোশ যেন জন্ম নিতে থাকে আলমের। গরম লাগে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও। বিদ্যুতের আলোতে দূর থেকে আলমের খালি পিঠটা দেখা যায়। ঘাম ঝরছে। আর আলম প্রবল চেষ্টায় হাতটা আনার চেষ্টা করছে পিঠের মাঝখানে, কিন্তু কিছুতেই জুতসই জায়গায় হাত পৌঁছাতে পারছে না। আলমের বিরক্তিটা মাথায় চড়তে থাকে। দরদর করে ঘামতে থাকে আলম, আর শ্বাস ফেলে। বাইরের বৃষ্টির তীব্রতা ততই বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎ পড়তে থাকে। বিশ্রী শব্দে। হয়তো কাছেই। আলোর সঙ্গে বিশ্রী শব্দ ভেসে আসে।

আচমকা একটা শব্দে ঘুরে তাকায় আলম। শব্দটা রান্নাঘরের দিক হতে আসে বলেই মনে হয়। প্রথমে গরজ করে না নড়ে বসার। কিন্তু চাচির চিৎকারে তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়াতে গিয়ে টলে যায় আলমের পা। সামলে বাইরে বেরিয়ে আসলে তার সামনে পুরো পৃথিবীটা টলে যায়। রান্নাঘর আর শোয়ার ঘরের মাঝে যে বারান্দা সেখানে বস্তা দিয়ে আলম জল আটকানোর চেষ্টা করেছে একটু আগে, সেই বস্তায় পা আটকে ঘরের ডোয়ায় উপুড় হয়ে পড়েছে পারভিন। মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ উঠছে। আর মুখে আর্ত চিৎকার করার সময়টুকু অব্দি পায়নি বলে কেবল চোখের কোণা হতে জল গড়াচ্ছে। স্থবির দাঁড়িয়ে চাচি আর আলম বিদ্যুতের আলোয় পারভিনকে দেখে একবার, একবার দু-জন তাকায় দু-জনের দিকে। বহু কষ্টে চাচি পারভিনকে চিত করিয়ে শোয়ায়। আলমকে তখনও স্থবির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চাচি চিৎকার করে ডাকে। চাচির ডাকে সংবিৎ ফিরে পায়। চাচির সাথে আলম ধরাধরি করে পারভিনকে নিয়ে এসে শুইয়ে দেয় বিছানায়। ততক্ষণে পারভিনের জল ভেঙে গেছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় চিৎকার করার শক্তিটুকুও নেই। মাঝে মাঝে গোঙানি রয়েছে বটে কিন্তু আবার অচৈতন্য হয়ে শুয়ে পড়ছে। চাচি উপায় পায় না। এই জলের মধ্যে তাকে নিয়ে কোথাও যাওয়াও সম্ভবপর নয়। আলম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েই থাকে।

সারারাত ধরে চাচির সঙ্গে খাটে আলম। গরম জল আনে, দৌড়ে খুঁজে পেতে একটা কাঁচি পায়, সেটাই তুলে দেয় চাচির হাতে। সারা রাতে একবার গভীর যন্ত্রণায় আক্রান্ত হয় পারভিন তো আবার নতিয়ে পড়ে। এলিয়ে যায় শরীর। সারা রাতের যুদ্ধ শেষে ভোর রাতের দিকে আলম আর চাচির আনাড়ি আস্ফালন শেষ হয়ে এক ফুটফুটে রক্তমাখা মেয়ে জন্মায়। কিন্তু দু-জনের কেউই শত চেষ্টাতেও তাকে কাঁদাতে পারে না। চাচি বারবার তীব্র চিৎকারে ডাকে পারভিনকে। পারভিনও আর সাড়া দেয় না যখন, তখন ভোরের আলো ফুটেছে। অবিশ্রাম বৃষ্টির ধারা তখনও কমেনি। যদিও দিনের আলোতে জলঝড় কমে আসছে মনে হয়। চাচি রক্তমাখা হাতে মেয়েটাকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে দুলতে থাকে। আলমের মাথায় হাত। সে অপ্রকৃতস্থ চোখ নিয়ে জল খায়। কুঁজা উপুড় করে ঢক ঢক শব্দ করে জল খেয়ে বাকি জল মুখে ঢেলে ঠেলে দিয়ে ছুড়ে ফেলে কুঁজাটা। ফাঁকা কুঁজা দোয়ার পাশে লেগে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে প্রথম পড়ে গিয়েছিল পারভিন। যেখানে এখন রক্তের ছোপ এসেছে। সারা রাতের বৃষ্টিতে গুলে গুলে লালচে ভাবটা থেকেই গেছে, কিছু বুদ্‌বুদ জমেছে সেখানে।

বেলা বাড়ে, বৃষ্টি একদম কমে না গেলেও তার দাপট কমেছে ততক্ষণে। কীভাবে খবর চাউর হয়ে গিয়েছে গ্রামে। পাশের বাড়ির এক-দুই জন করে এসে প্রথমে দাঁড়িয়েছে উঠানে। একটু সাহসী গোছের এক পড়শি সাহস করে ঘরে ঢুকেছে। তার পিছু পিছু বেশ কয়েকজন প্রবেশ করে ঘরে। সকলের কাছে স্পষ্ট হয় পুরো ঘটনা। কিন্তু চাচি আর আলম একইরকমভাবে বসে থাকে। তাদের কাছে যেতে একটু অস্বস্তিই হয় সকলের। কিন্তু মুজিব সামনে যায় আলমের। ধাক্কা মারে। গালে থাপ্পড়। মেরে ঘোর কাটাতে চায়। ঝাকুনি দেয় জোর। আলম ঠিক উঠে পড়ে দ্রুত পায়ে। বেরিয়ে আসে। বাইরে কুয়ার পাড়ে রাখা সাইকেলটা খাড়া করে নিয়ে ঘুরিয়ে নেয়। তার লক্ষ নেই কারও গায়ে লাগল কি না। চাপ দেয় প্যাডেলে। দু-বার পড়ে যেতে যেতেও সামলে নিয়ে বেরিয়ে যায় বেড়াটাকে হেঁচকা টানে সরিয়ে দিয়ে। তীব্র বেগে গ্রামের রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে এসে ওঠে বড়ো রাস্তায়। বৃষ্টি একটু থমকে এলেও আবার তার বেগ বাড়তে শুরু করে। উদ্‌ভ্রান্তের মতো সেই জলের ভেতর আলম সাইকেল চালিয়ে চলতে থাকে। হঠাৎ নেমে যায় বা পাশের রাস্তা দিয়ে নেমে যেতে চাইলে পাথুরে পথের রাস্তাটায় সাইকেলের বেগটা আগের থেকে একটু কমে যায়। শক্তি খরচ হয় অনেক বেশি।

আলম বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালাতে চালাতে মাঠের অনেক গভীরে প্রবেশ করে। চারপাশে ধু-ধু বৃষ্টির মাঠ। কোথাও কোনো কিছু নেই। আলমের সাইকেল থেমে যায়। সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়িয়ে থাকে ফাঁকা মাঠে। হঠাৎ তার সাইকেলের সিটের ওপর উঁচু থেকে যেন কিছু পড়তে দেখে আলম। এগিয়ে যায় সামনে। সারা সাইকেল জুড়ে অজস্র সাপের স্তুপ। একটা সাপের পিণ্ড আচমকা আকাশ থেকে নেমে এসেছে আলমের সাইকেলের গায়ে। আলম হাত দিয়ে সাপের পিণ্ড তুলে খুব কাছে আনে চোখের। হলুদ কালো ডোরাকাটা সাপ, সাদা সাপ, কালো সাপ, খয়েরি সাপ সব জড়িয়ে রয়েছে। পেঁচিয়ে রয়েছে এক,-অপরের সঙ্গে। আলম ডুকরে কেঁদে ওঠে। মাটি আঁচড়ে আকাশের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে কাঁদতেই থাকে। জল ঢুকে যায় যতটা চোখে মুখে ততটাই লালা থুতু বেরিয়ে আসতে থাকে ভেতর থেকে। মাটিতে ছুড়ে ফেলে আলম সবগুলোকে একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখতে থাকে। মরা সাপের পিণ্ড। বৃষ্টি পশলা দিচ্ছে, তার ঝাপটায় আলম দেখতে পায় আকাশ থেকে ঝরে পড়া সাপের পিণ্ড হতে একটা সাপ, সাদা সাপ, পেঁচিয়ে উঠছে তার সাইকেলের চাকা বেয়ে। আলম ছুটে যায় কিন্তু পৌঁছতে পারে না, ছিটকে পড়ে যায়। জ্ঞান হারায়। একে একে মৃত সাপের পিণ্ড হতে সাপেরা প্রাণ পায়। উঠে আসে। ছড়িয়ে যায় আলমের পা বেয়ে, হাত বেয়ে, সারা শরীর বেয়ে।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ও নিবাস জলপাইগুড়ি শহরে। ভূগোল ও ফলিত ভূগোল বিষয়ে ডক্টরেট অর্জন করে বর্তমানে স্বতন্ত্র গবেষণা কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। গবেষণার পাশাপাশি ছবি আঁকা, কবিতা, গল্প, গদ্য, প্রবন্ধ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার অনায়াস যাতায়াত। প্রকাশিত কবিতার বইয়ের সংখ্যা পাঁচটি। এছাড়া একটি গদ্য ও একটি ছবি নিয়ে প্রবন্ধের বই রয়েছে। ছবি ও কবিতার মেলবন্ধনে বিশ্বাসী শ্রেয়সী চিত্রকল্প নিয়ে নতুন ভাবনাচিন্তায় রত। তবে তার গল্পের আঙ্গিক সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তার নিজের গল্পকে ন্যারেটিভ হিসাবে প্রাধান্য দিতে পছন্দ করে। গল্প লেখা ও বলার পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে একটা সূত্র স্থাপন তার পছন্দের।

অন্যান্য লেখা