এই মাস থেকে কেতাব-ই ব্লগজিনে শুরু হল ‘জেলার সাহিত্য’ নামের এক বিশেষ আয়োজন। যার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে বিভিন্ন জেলার নতুন ও পুরনো লেখকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন জেলার ভিন্ন স্বরকে একত্রিত করে বর্তমান বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক রূপনির্মাণ। আমাদের প্রথম নির্বাচিত জেলাগুলি হল দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, এবং কোচবিহার। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে আমরা প্রকাশ করব এই পাঁচ জেলার সাহিত্য। আজ প্রকাশিত হল জলপাইগুড়ি জেলার কবি অনিন্দিতা গুপ্ত রায়-এর কবিতা।
এক
কান্নার শব্দের মধ্যে থেকে
তাকে কুড়িয়ে আনি
কুয়াশার হাইরোড থেকে
একমুঠো গলাভাতের কাছে
স্পর্শ গন্ধ পেরিয়ে
সে যা খোঁজে তাকে অনুবাদ করতে করতে গলনাঙ্ক নেমে যায়, পাঁজরের।
মায়া থেকে দূরে
থাকার অভ্যেস আস্তিনে লুকোই
শীত খুব গভীর হয়ে বসে শরীরে
ভোরের বাসের অপেক্ষায়
সে আর আমি
আমি আর সে
এগিয়ে দিতে আসা মোড় অবধি
ঘন না হওয়া লোমের ওপর
কুয়াশা আর নদীর হাওয়া
অচেনা মা-শরীর জড়িয়ে বাচ্চাগুলোর কুন্ডলী বারান্দার নিচে
বুভুক্ষু তাকিয়ে থাকা
কেঁপে ওঠা ছোট্ট শরীর
জ্বলজ্বলে কালো চোখ, কাজল কাজল
প্রদীপের, একলা রাতের
মাঘ সকালের
মা না থাকলে খুব শীত করে
ঠান্ডা জল গায়ে ঢেলে চলে যায় মানুষের দল
আমি জানি
দুই
কথা না বলেও অপেক্ষা বিনিময়
শিখছি, শিখছি তাকানোর ভঙ্গি থেকে গান শুনে নেওয়া
ধ্বনিহীন সুর বেজে ওঠা
মুখ গুঁজে পড়া থাকা মনখারাপের
তুই কারও কেউ না
তুই কারও কিচ্ছু না
বেওয়ারিশ জীবনেরা যেরকম
কাদা ধুলো থুতু লাথি
ছুটে আসা পাথরে চমকে ওঠা ঘুম
দু-একটা ছায়া বাড়ি ফিরে এলে
তাদের পায়ের চিহ্ন ধরে ধরে
তোর ছুটে আসা একটা রূপকথার মতো তবু
ছায়াদের শরীর আলোয় বদলে দেয়
নিজেকেই চিনে নিয়ে
মাঝে মাঝে তোর কাছে ঋণী থাকে
মানুষগুলোও
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
তিন
তোর জেগে থাকা আর ঘুমোনোর মাঝখানে একটা চারা পুঁতি
নরম হেলে পড়া
মাটি জড়ো করে করে
আলো জড়ো করে করে
জল জমা করে করে
একদিন গাছ
সেদিন খুব বাতাস আর ছায়া
ওই ছায়াটার সমান হয়ে উঠবি তুইও একদিন
চাইলেও আর
পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া থেকে
আলাদা করতে পারবে না কেউ তোকে
খিদে আর ভয় পাওয়ার মাঝখানে একলা ঝড়ের রাত
প্রতিধ্বনিহীন ফিরে আসবে না তখন আর…
চার
ভেসে যাওয়া পিছল রাস্তার অন্যদিক থেকে কান্না ভেসে আসে
সেইসব কান্নার ভাষা তোমরা জানো না বলে অসহ্য চিৎকার মনে করে
কানে আঙুল বন্ধ করো
ঘরের জানলা বন্ধ করো
কিন্তু কীভাবে যেন মাথার মধ্যে ঢুকে পড়া হাতুড়ির ঘা
থামে না।
ক্রমশ অসংলগ্ন আচরণ শুরু করলে
তোমাদের থামাতে ছুটে আসে মিছিলের মুখ পতাকার হাত
কাদাজল মাখা পাগুলো
তোমরা চিৎকার শুরু করো
আয়না না থাকায় দেখতে পাও না
লম্বা চোয়াল ঝুলে পড়া কান
আর সরু দাঁতের সিল্যুয়েটে
কী ভীষণ হিংস্র হয়ে উঠেছ
অজান্তেই
নিরীহ চতুস্পদ শিশু
পৃথিবীটা মুখে নিয়ে লোফালুফি
খেলছে তখন
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।