প্রকাশিত হল সৌভিক বসুর তিনটি— কবিতা চা বাগানের কবিতা, শিহরণ এবং অন্যরা যা দেখে না।
চা বাগানের কবিতা
১
আমি আর তুফান গোয়ালা সিগারেট খাই গাছতলায় বসে। বাচ্চারা
ছুটে যাচ্ছে কেটে যাওয়া ঘুড়ির পিছনে আর বিকেলের রোদ মেখে
মহিলা দলের সভা বসেছে দূরে। তুফান চুপ করে থাকে আর
আমাকে দেখে। আমি জিজ্ঞেস করি তাঁর বাড়ির কথা। গরুহীন
বাথান যেমন থাকে সেইমতো তুফানের চোখ। জল পড়ে টপ টপ
করে আর সে আমাকে বলে যায় কীভাবে তাঁর ছোটো ছেলে খুন হয়
করম পুজোর দিন প্রতিবেশী মানুষের হাতে।
২
ভালো কেউ বাসেনা তেমন, মাঝে মাঝে শুতে চলে আসে। মেয়েটি
চিত হয়ে থাকে আর অন্যরা গড়িয়ে গড়িয়ে যায়। এভাবেই দিন
কাটে। ভোরের কয়লা জ্বলে ওঠে ওরাওঁ পাড়ার প্রতিটি ঘরে,
তারপর, বাগানের পথ ধরে বস্তা পিঠে মেয়েরা হেঁটে যায় অন্ধকার
দিনের ভিতরে...
৩
মডেল ইস্কুল থেকে মেয়েরা বাড়ি ফেরে আর ছেলেরা নেশা করতে
চলে আসে মাঠের পিছনে। জুয়া খেলে, ফেলে দেওয়া বোতল থেকে
চেটে খায় মদ। আমরা বাগান দেখি আর চা নিয়ে পার্টি করি
কলকাতায়, ছাদের উপরে।
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
শিহরণ
আমি যখন ঘুমাই
আমার সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে
আরও অনেকে
বালিশের তুলো সরে যায়
মাথার দু-পাশে
চাদরের হাত দুটো
ছুঁতে চায় মাটি
আমার ঘুমের সঙ্গে
জড়িয়ে যায় ভয়
জানালার পর্দা হয়ে যায় স্থির
আমার নাক, মুখ, ঠোঁট থেকে
সমস্ত শরীর চুমু খেতে শুরু করে
অজানা এক শিহরণ
আমার লিঙ্গের উপর
কে যেন হাত রাখে
কাঁধে নাক ঘষে
তারপর,
আমাকে নাচায় সারারাত
তাঁর প্রিয় বাজনার সাথে
অন্যরা যা দেখে না
১
শেষের দিনগুলোতে ঠাকুমা ঘুম থেকে উঠে আমাকে ভাবত তার
পরলোকগত স্বামী আর দিনের বাকিটা সময় আমি হয়ে যেতাম তার
দুই ছেলে। এইভাবে সারাদিন চরিত্র বদল করে রাত ন-টার সময়
মাত্র দু-বছরের নাতি হয়ে দুধ খাইয়ে দিতে দিতে আমি কান পেতে
শুনেছি লোহার চাকা গড়ানোর শব্দ।
২
ঘুমন্ত শরীর থেকে মাঝে মাঝে ঠাকুমা আলাদা হয়ে যেত। কে যেন
তুলে ধরত তাকে আর ঘোরাতো সারা ঘর, তারপর কোথায় যেন চলে
যেত। আমি মাঝেমধ্যেই দেখতাম ঠাকুমা নিজের ভেতরে নেই আর
অন্য ঘর থেকে বাবা হঠাৎ চিৎকার করে উঠত। আমি সারা খাট
জুড়ে খুঁজতাম মা-কে আর তখন, বারান্দা পার করে একা একা
ভেজা শাড়ি আর ব্লাউজ গায়ে দিয়ে ঘরে আসত আমার ঠাকুমা।
৩
ঘরের ভিতরে শুধু মানুষের ছুটোছুটির শব্দ। ওদের রান্নাবান্না আর
পরিপাটি শোয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ঠাকুমা প্রায় ডাক দিত আমার
পিসিকে। বাড়িতে মাত্র দুটো লোক— রান্নাঘরে মা আর শোয়ার ঘরে
আমার ঠাকুমা নিজেদের বাস্তবতা নিয়ে পার করে দিত বছরের
সবকটা দিন।
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই, ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।
মন্তব্য করুন