প্রকাশিত হল অমিতাভ দাসের লেখা অণুগল্প ‘মন্টু যা ভাবে’।
গভীর শীত রাতে দূরে কোথাও ঢাক বাজে। উলুধ্বনি... শনিবার... কাঁসর-ঘন্টা... আজ কি অমাবস্যা নাকি? মন্টু ভাবে। রতনবাবুর দোকানঘরের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে সে ভাবে। শীত পড়েছে ভালোই। সবে ডিসেম্বরের শুরু। আরও কত শীত পড়বে। শ্যামা সংগীত শুনতে শুনতে মন্টু ভাবে, শীতের কুয়াশামাখা আলপথ ধরে মা আসছেন আজ। আলতারাঙা যুগল চরণ, কণ্ঠে জবার মালা...
মন্টু শুনতে পায় দুর্গামন্দিরের বাজারে সারাদিন ধরে চলতে থাকা নাম সংকীর্তন। মধুর বাঁশির সুর। ওর মায়ের কথা মনে পড়ে। মা খুব কীর্তন শুনতে ভালোবাসত। মনে পড়ে বুড়ো বাপের কথা। লোকটা শীতের রাতে কাশতে কাশতে মরে গেল। বাবার হাতে ধরা ছিল নামের মালা। বাবা বলল, ঈশ্বর আসছেন।
পদাবলীর হু-হু করা এক বিরহের সুর। মন্টুর মনটা উদাস হয়ে ওঠে। মনে হয় এখন তাহলে ঈশ্বর আসছেন। হাতে বাঁশি। কণ্ঠে তুলসীমালা, হাসিমুখ...
আকাশ-বাতাস জুড়ে কী এক মায়া। ভালোবাসা যেন ছুঁয়ে আছে মন্টুর হাত। গতকাল সে একটা নতুন কম্বল পেয়েছে। আরও পাবে। মন্টুর মনে হয়, শীত মানে কি শুধুই কম্বল? আর কিছু নয়!
রুমকিদের খিড়কি দরজার পাশে মা কুকুর ওর বাচ্চাদের নিয়ে শুয়ে আছে— ওদের কি শীত লাগে না?... মন্টু উঠে গিয়ে নিজের কম্বলটা ওদের গায়ে চাপিয়ে দিয়ে এল। তারপর সামান্য হেসে মনে মনে ভাবল, কাল সকালে লোকে বলবে— পাগল।
কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’।
কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই, ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।
মহুয়া মীল।
5 দিন আগেবা:! বেশ লাগলো।
মহুয়া মীল।
5 দিন আগেবা:! বেশ লাগলো।