preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
উন্মাদবাহিত: পর্ব ৫
ধারাবাহিক

উন্মাদবাহিত: পর্ব ৫

রাধাবল্লভ চক্রবর্ত্তীর দীর্ঘ কবিতা উন্মাদবাহিত এক গভীর আত্মসমীক্ষার যাত্রা। মৃত্যু, উন্মাদনা, প্রেম, রাজনীতি ও ইতিহাসের জটিল অভিঘাতে কবির চেতনায় জন্ম নেয় ভাঙাচোরা কিন্তু তীব্র ভাষা। শ্মশান, স্বপ্ন, স্মৃতি ও বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে মানুষ, দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠে আসে। শেষপর্যন্ত কবিতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার আর্তি ও প্রতিরোধের উন্মত্ত স্বর।
কেতাব-ই-র ব্লগজিনের পাতায় আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে এই ৭০ পর্বের দীর্ঘ কবিতাটি। পঞ্চম পর্বে থাকছে আরও সাতটি কবিতা।

২৯
আজকের জন্য কী? কোনো ভিক্ষে আছে?
কোনো মহার্ঘ্য বা তদ্রূপ? দুয়ারে-দুয়ারে
ঘুরে নিজের অপরিমেয় মূর্খতার প্রমাণ
দিয়েছি তবে আজও? আমারই অজান্তে? অবচেতনে?
কাকে প্রশ্ন করছি আমি? কে আমায়
উত্তর দেবে? জনপ্রিয় হল দেবতা সেই,
যেহেতু জিতেছে, অধিক সংখ্যার বিচারে।
এখনও দাঁতের ফাঁকে আটকে আছে স্বাদহীন
মাংসকণা ও চর্বিত জীবন। এখনও
আলো ও অন্ধকার সমানভাবে আমাকে ভালোবাসা
দেয়—তাই কি চিতাকাঠ বহনের স্মৃতি
মুছে যাচ্ছে না আর? কাল কি
জীবন তবে হাসতে হাসতে মরে যাবে?
তৎসত্ত্বেও, বজায় রাখবে তার সমপরিমাণ উদ‌্গার?

৩০
দ্বিখণ্ডিত করে শরীর এবং আত্মাকে, তবে
কি যাচ্ছ তুমি চলে, পেরিয়ে সকল
ক্রান্তিরেখা? প্রলম্বিত করা বহুজন্মের সম্মিলিত
অভ্যাস নয়, বরং ধর্ম তোমার! কার চোখ
হীরকের মতো উজ্জ্বল? কে আমায় চিনে
নেবে, পড়ে নেবে? অরক্ষিত আমি ইদানীং
পড়ে থাকি, প্রায়—প্রাণাধিক প্রিয় হতে
কী কী শর্ত পেরোতে হয় তবে?

সাজঘর থেকে তুমি বাহিরে আসো পরে
নৃমুণ্ডমালা—আমিও পুত্র কার? অতি শঠ,
উদাসীন; দূর থেকে দেখি, তাই, দূর
থেকে সরে যাই— কেউ না জানুক, আমি
জানি: যদি কাছে চলে যাই, স্পর্শ
করি, সমস্ত শরীরে গেঁথে যেতে চাইবে
এই রক্তপিপাসু নখ, দহনজ্বালা ও ক্ষুৎকাম...

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

৩১
দুয়ার এঁটে কী গূঢ় সাধনা করো?
চরিত লিখছ যদি, লেখো, দোষ-গুণ,
চারিত্রিক ত্রুটি। তোমার নিষ্প্রভ প্রত্যহ
জন্মের কিনারে, আমার সন্তপ্ত সমাধির নির্মিত
হওয়া—এখন দীপান্বিতা নয়; গত সে;
তবু কে জ্বালায় শ্লাঘা? শব্দহীন আলো?
যেন তার পুনরাগমনের নব্য পথের কোনো
উত্থান ঘটে; তার দণ্ডে দণ্ডিত আমি,
একা সাক্ষী থেকে। মৃত্যু আমার কাছে
এসে ঢেকে দেয় নগ্ন শরীর, ছেঁড়া
মানচিত্রে; ঢেকে দেয় পৃথিবীর শত পুষ্পদলে।

৩২
হয়তো ব্যবচ্ছেদ হলে কোনোদিন, বোঝা যাবে,
কতটা তেজস্ক্রিয় ছিল তার উন্মাদনা—
কোনো ক্ষত নেই তার—কিংবা, এমন সে
নিষ্প্রাণ যে, সর্বনাশেরও যে ভাষা থাকে,
তা তাকে অতঃপর বিদায় জানায়। আমার
দেশের হাওয়া, আকাশ ও পাখির ডানাও
একদিন পরাধীন ছিল; একই বিস্ময়ে বারেবারে
বিস্মিত হওয়া, একদিন আমারও ছিল প্রাত্যহিকতা।

আজ বুঝি তেমনও দিন নেই আর?
এখন চোখের ভাষা অনুবাদ করে রাইফেল
উর্দিধারী গুলি ছোড়ার আগে ভাবুক হয়ে
বলে: ‘দুঃখ করতে নেই, মেনে নিতে হয়—
কী আর করবি বল? সবার এমনিই—
পাওয়ার চেয়ে বেশি না-পাওয়া সবার লাইফে...’

(গুলির শব্দ। অবশেষে মৃত্যু হল তার।)

৩৩
কাহিনি নিজের মতো গড়ে নাও। বড়োজোর
তোমার জন্য আমি এনে দিতে পারি,
সুশৃঙ্খলভাবে, প্রশমিত শীর্ষক—গণতন্ত্রের
ভিতর আটকে গেছি আমি; এবং, শ্মশ্রুর
মাঝে, আটকে দিয়ে গেছে কে যেন
নিপুণ শৈল্পিকভাবে মম মুখ—ঘটনাক্রমে
যে থেকেও থাকেনি, সে আজও উচ্চকোটি
স্মৃতি হয়ে থেকে গেছে। এইসব দিন-তিথি
মৃত্যু ডেকে আনে নিজের ভেতর। ভগ্ন
পরিবার, উজ্জ্বল উচ্ছলতা, অবাধ, অনিয়ন্ত্রিত
হাসির শব্দে, মৃদু অত্যাচার, সহোদরাদের মনে পড়ে...

৩৪
পৃথিবীর সশস্ত্র পরিধির দিকে, সরলতা ফেলে,
তাকিয়ে রয়েছে, প্রজননে উৎপন্ন তোমার-আমার
বাড়ির শিশুরা—আমাদের বিচ্যুতি ধরা পড়ে
এসবের মাঝে। প্রশ্ন শুনলে ব্যথা লাগে;
প্রশ্ন শুনলে যেহেতু নিজেদেরই দায়ী করা
হয়, অনেক মুণ্ডপাত শেষে, বিচার্য করেছি
এই, ওসব প্রশ্ন তবে অন্য কারোর
দিকে কারণ দর্শিয়ে ছুড়ে দেওয়া যায়
না কি, না—নিজের বয়ানে লিখে চলা
এইসব কুটিলতা—তারই মাঝে আড়মোড়া ভাঙে
সম্পন্ন শিশুরা। এখন খেলার বয়স যদিও বিগত,
প্রাথমিকভাবে তারা জানে, বৈচিত্র্যের লিঙ্গ কী...

৩৫
উপলব্ধি গড়ে দেয় নিজ হাতে, এই রাত,
আমাদের—ঠোঁটের লালিমা বা বুকের সবুজে,
ভাষার নিরঙ্কুশ অধোগতি দেখি। যেসব অট্টহাসি
বধিরতা আনে, তার কাছে রাখি আমি
শিশুদের জন্য সংরক্ষিত কান্না। কিঞ্চিৎ বঞ্চিত
করা হল মঞ্চের রোশনাই থেকে—তাতে
যদি পাপ হয়, তবে, সেই পাপ ভক্তিভরে
দু-হাত পেতে নিয়ে, নিজের কাছে রেখেছি।

জনপ্রিয়তা এত আড়াল করেছে আমার সন্তানদের
ওরা চলে যায়, বিদেশি ভাষায় কথা,
অভিযোগ প্রস্তুত করে, বলে যায়, নিঃসঙ্গতার
ভেতর একা একা—উপলব্ধি হল তাতে
কিছু; এই ব্যবধান রাখা, অবিবেচনা ব্যতীত
কিছু নয়! কাদের অট্টহাসি? কাদের সংরক্ষিত
কান্না সমার্থক হল বধির হওয়ার উৎসবে?


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। কবিতা লেখার ইচ্ছে রয়েছে। ‘প্রতিভাহীন পাথর’ নামে একটি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মানচিত্রে ও অজান্তে’।

অন্যান্য লেখা