preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
উন্মাদবাহিত: পর্ব ৮
ধারাবাহিক

উন্মাদবাহিত: পর্ব ৮

রাধাবল্লভ চক্রবর্ত্তীর দীর্ঘ কবিতা উন্মাদবাহিত এক গভীর আত্মসমীক্ষার যাত্রা। মৃত্যু, উন্মাদনা, প্রেম, রাজনীতি ও ইতিহাসের জটিল অভিঘাতে কবির চেতনায় জন্ম নেয় ভাঙাচোরা কিন্তু তীব্র ভাষা। শ্মশান, স্বপ্ন, স্মৃতি ও বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে মানুষ, দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠে আসে। শেষপর্যন্ত কবিতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার আর্তি ও প্রতিরোধের উন্মত্ত স্বর। কেতাব-ই-র ব্লগজিনের পাতায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে এই ৭০ পর্বের দীর্ঘ কবিতাটি। অষ্টম পর্বে থাকছে আরও সাতটি কবিতা।

৫০.
শরীরে গঠন জাগে। সালংকারা। খাদে পরিপূর্ণ,
হবে শুদ্ধিকরণ—মা হয়ে অস্থিরতা, মাৎসর্য
শেখাও এখন? সোনার জলে আমি ডুবিয়েছি
পরিস্থিতি, তরবারি—অনন্য পাপ আছে; নিজস্বী,
আমার। পদে-পদে অভিমুখ; ভাঙা! অত্যাধুনিক
চৌখুপির প্রদীপে, আলো ও অন্ধকার উভয়েই
জরদ্‌গব! এই চিঠি, সবিনয় নিবেদনে জানাই,
শোনো: আমিই যক্ষ সেই—জন্মান্তর আগলে রেখেছি...

৫১.
সকল পরিস্থিতি ষড়যন্ত্রকারী। সকল পরিস্থিতি
মুক্ত, দয়াময়। কাব্যভাবালুতা, অভিনয় চেনো? গন্ধ
শুঁকেই তুমি চিনেছ ওষধি। কিছুই পাবে না
এভাবে; উপচে বাহিরে গত হবে তব
কৃতাঞ্জলি। ধন ও ধান্যে যে দিনটি বিকল
হল তবে, তার শরীরে কোন পরিমিত
রুগ্‌ণতা এল? কাজল-কাজল চোখে ঈর্ষা
দেখেছ? অন্য নামে, প্রণিধানে যেন মনে হয়
তুমি আমায় ডেকেছ? ভুল শস্য, বীজের
বপন করেছি? মেতে উঠেছি এক অন্য
খেলায়। মরণকুয়া পেরিয়ে উল্লম্ফন—এই তীর
থেকে যাই অন্য তীরে—আরও অনেক
কাজ, বাকি থেকে গেল ঠিকই; আজও
রুটি-রুজির সংস্থান নেই। বহিরঙ্গ দ্যুতিময়,
ভেতরে গাঢ় অন্ধকার; নতশির মূর্তিরা সুশৃঙ্খল,
নিরুপম; একেও খেলা বলে বিবেচনা করো
যদি, তবে, মন্দ কিছুই নয়—হেরে-যাওয়া
লুপ্ত হবে। হারার গৌরব নিয়ে তুমি ধুলোমাঠে যাবে।

৫২.
অন্য এক অনুভবে তাকে আমি জাগ্রত
রাখি। সুশ্রী জীবন মানে: দীক্ষিত হওয়া
কোনো উচ্চারণে। প্রতিষ্ঠা করেছ: কল্পনা, বাস্তব।
অসূয়া, কিংবা, আমি স্বজনবিয়োগে, প্রতিপাদ্য করেছি
সংকীর্তন। নিরুত্তর থাকা মানে ভেঙে পড়া
নয়; জানো যদি, বলো: এই উপগ্রহ কবে
চিৎকার শোনাবে? সেখানে কলোনি হবে, ভেবে
কেউ কেউ সুখী হয়; নরমেধও হতে
পারে, ভেবে কেউ কেউ বিচলিত—জানাওনি কেন
তুমি? ধর্ম ভুলেছ? রক্তের অন্ধকার সামরিক; ইতিহাসে মাখামাখি!

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’

৫৩.
শরীর শুয়ে ছিল খাদের নিকটে; শ্বাপদ
তার পর বমন করেছে; চিত্রটি বীভৎস
আরও আরও হতে পারত, কিন্তু, না,
সে বড়ো সংযমী, নিরাপদ বোধ করিয়ে
দিতে চায়—বোধের অতীত হয়ে তেমনটি
থাকো, হে কথন; স্বল্পায়ু এ জীবনে সাহচর্য
পেতে চাই আমি; নামঙ্কনের আগে দেখো—
ধড় থেকে মুণ্ড আলাদা হয়েছে কি না;
মুখের কথায় কী এসে যায়? বিশ্বাসযোগ্য
তো নয়—ব্যাহৃতি রয়েছে, ঠিকই, কিন্তু,
কে বৃদ্ধ হতে চায়? আপাত ছন্দহীন,
অর্থহীন যা-কিছু, মিথ্যে পরিচয় দিয়েছে,
প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে—আমরাও আসল
কতটা? নকল কি নই? যেন সেই
প্রশ্ন ও অন্বেষণের প্রয়াস, উত্তর লেগে আছে শীর্ষকে।

৫৪.
সংখ্যা-দ্বারা চিহ্নিত ও আলো-হাওয়ায় নির্মিত
আমরা, এখন, তোমার নাগালের বাইরে না
নির্দিষ্ট গ্যাসচেম্বারে। কার যেন নাৎসি সাজা
শেষ হলে, এসে, সাঙ্গ করবে খুব
নির্ভুলভাবে, আমাদের এক্সিকিউশন—কোন অপরাধে
ঘোষিত এহেন ভয়াল মৃত্যুসাজা, নেই তার
সুস্পষ্ট জবাব। অবশ্য কেউই বাধ্য নয়, জানাতে—
অবশেষে, বহু ভেবে, এষণায় ভর দিয়ে
জানতে বা বুঝতে পেরেছি: কেন জন্মেছি আমি—
জন্মানোই হল সবচেয়ে বড়ো অপরাধ! এবং,
সে-অপরাধ করেছি আমি। দেখতে চেয়েছি,
শিশুর কান্না মুছে যাওয়া—হাসি—বাঁচতে
চেয়েছি আমি আমারই এ চির প্রিয়
শস্যশ্যামলা পৃথিবীতে। এও কি অপরাধ
কম? বরং, সর্বাপেক্ষা, সর্ববৃহৎ অপরাধ হল
এ-ই—আমি কি বায়াস্‌ড তবে? আমি কি হিপনোটাইজ়‌্ড?
তালে তাল, গলায় গলা মিলিয়ে কথা
বলি? না কি শুদ্ধ কোনো ভয়ে? নিজেকে
ঘোরতর অপরাধী ভাবি? চাই, নিকেশ হতে?
এ-জন্মে এতকিছু; গতজন্মের নিদারুণ চাবুকের
অর্ধস্ফুট শব্দ, ধ্বনি এখনও শোনা যায়—
অত্যাচারিত হতে নয়, তারও চেয়ে বেশি
এখন আমাদের কথা, কাহিনিও পরক্ষণে অভিনীত
ও জনপ্রিয় হচ্ছে দেখে নিতে চাই; ভালোবাসি—
আমরা সেসব হঠাৎ হঠাৎ ওঠা কলরোল,
হাততালির ভেতর, তাদের দ্বারাই পীড়িত হচ্ছি,
জেগে উঠছি, আরোগ্য পাচ্ছি, ঘুমিয়ে পড়ছি;
আমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে;
বা, আলোর দিকে, আলোর পথে আসছে—

তারপর, যখন মঞ্চ শান্ত, পর্দা পড়বে,
দর্শকরা ধীরে ধীরে বাহির হবে, শান্ত;
কারোর মুখে কোনো কথা নেই, কী ওয়েভ
তাদের মনের ভিতর আছড়াবে? কীরূপ আন্ডারকারেন্ট?
এনি চেঞ্জেস? কেউ কারওর মুখের দিকেও
তাকাবে না; কেবল মনে-মনে ভাববে:
আমি বা আমরা সবাই কি তবে এমন
অত্যাচারিত? কিংবা, অত্যাচারী—নাৎসি?

৫৫.
ইন্দ্রিয়, গতানুগতিক দেবতা—আমাকে জাড্য থেকে
তুলে এনে, প্রদান করে গতিশীলতা। এ ছাড়া
অভিপ্রায় ভিন্ন কোনো কি থাকতে পারে
না? তুমি শীতলতা পাচ্ছ, শান্তি পাচ্ছ,
বহ্নুৎসব শেষে সমুদ্রে নাইতে নেমে—পূর্বঅভিজ্ঞতা
পাথর করেনি বাকিদেরও—ঈশ্বর এখানে একা;
বিহ্বল; ঈশ্বর মুখরিত কথোপকথনে, আরেক ঈশ্বরের
সাথে। তুমি কোনো মধুকর; সামান্য এমন
পরিচয়ে, সামান্য আছ, তারপর, সরে যাবে।
তবে কি তুমিও আত্মীয়? হৃদয়ংগম করো
ক্ষণকাল? এখানে অভ্যাসে স্থানু হয়, সম্ভোগ
হয়; বাকি যা যা আছে তা তো উন্নাসিকতা
ও তাড়িত—এখনও পিত্রালয় প্রিয়; এখনও
অব্যূঢ়া প্রিয়জন—পৃথিবীর বিপরীতে পরিসর
এখনও কি আছে? দ্বার আছে? ঘট আছে?
যথেষ্ট গোধূলি, বিবাহলগ্ন বা যথার্থ সম্প্রদান আছে?

৫৬.
সে কোনো অবিচল পাষাণমূর্তি তো নয়;
বরং, আমাকে পাষাণ করে দিয়ে, বরাভয়
দেয়; স্নেহের স্পর্শে আমি আলোড়িত হ‌ই;
হই উজ্জীবিত—তোমাকে হৈমবতী আজও ভাবি
আমি—এইসব ঊষরতা, মালিন্য রন্ধ্রে রন্ধ্রে
প্রতিভা—তুমি ছিলে, তাই এত ডুবতে
পেরেছি; বদান্যতায়, কদাচিৎ ভাসমান—
গ্রহণযোগ্যতা জীবন দেখেছে—যে-রাত্রে প্রতিহিংসা
দৃষ্টিগোচর। শ্লাঘা কোনো পরন্তপ? ঊর্দ্ধরেতঃ?
স্পর্শে অসম্ভব তারও বেশি ঘটে—বিষফল
ছেঁচে তুমি কারওর জন্য কি বানিয়েছ পথ্য?
করেছ কি আরোগ্যকামনা? এখনও শুভাশুভ ধরিত্রী ধরেছে।
বোধ এই দূরত্ব,প্রদত্ত আলো।
কীসের ক্ষরণ বা দায়িত্ব তাকে আত্মপতনের
দিকে নিয়ে গেছে? ‘উন্মাদ’ কথাটি
বারেবারে ফিরে আসে। শ্বাসরুদ্ধ অবিশ্বাস প্রান্ত সাজায়;
এ-ভাষা, চাহিদা যাবে করালের গ্রাসে! পথটি
সমন্বিত হয়; তবু দ্বিধা—অন্ধকার যবে
সমর্থিত। অভ্যুত্থান মানে আবার অন্তরালে যাওয়া?
আমি তবে শেষ বিন্দু দিয়ে, প্রতিপক্ষের পক্ষ নেব...

৫৭.
গর্ভদ্বার খুলে যায় একে একে। তিল-তিসি-ফুলে
ভরে যায় পটভূমি। স্বভাবে অবাক তুমি
এখনও হতে পারো না। কেউই বন্ধ্যা
নয় আজ—কেউই প্রবল বিদূষক। আমি,
আমার কথা বলি যদি, তাহলে বলতে
হয়: রয়েছে কত শত ফণা—যেকোনো
দৃশ্য অধিকার—যেকোনো দৃশ্য নারকীয়! কোনোদিন
ঝল‌্সানিতে সেসবে, না-পাওয়া আদর, ব্যথা,
গবাদির স্নান, স্মৃতি, ধমনীর ছিন্ন হওয়া
মনে পড়ে যাবে—সেও কি কম নরকদর্শন?
জারজ হয়তো নয়; জারজেরই মতো—কৌতুকে
বিষ ভরে, আমাদের করেছে অপমান। অপ্রবেশ্য
পথে বৃথা কেন কলহ ও অধিকার খোঁজো?
যেতে দাও, তাহাদের, স্বর্ণের সোপান পেরিয়ে...


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। কবিতা লেখার ইচ্ছে রয়েছে। ‘প্রতিভাহীন পাথর’ নামে একটি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মানচিত্রে ও অজান্তে’।

অন্যান্য লেখা