preloader
বাংলা বইয়ের e-ভুবন
Menu Categories Search Cart 0
Menu
Cart

Total 0 Items

☹ Your cart is empty

Sub Total:

$0

₹0

বিভাগ
উন্মাদবাহিত: পর্ব ১
ধারাবাহিক

উন্মাদবাহিত: পর্ব ১

রাধাবল্লভ চক্রবর্ত্তীর দীর্ঘ কবিতা উন্মাদবাহিত এক গভীর আত্মসমীক্ষার যাত্রা। মৃত্যু, উন্মাদনা, প্রেম, রাজনীতি ও ইতিহাসের জটিল অভিঘাতে কবির চেতনায় জন্ম নেয় ভাঙাচোরা কিন্তু তীব্র ভাষা। শ্মশান, স্বপ্ন, স্মৃতি ও বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে মানুষ, দেশ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন উঠে আসে। শেষপর্যন্ত কবিতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার আর্তি ও প্রতিরোধের উন্মত্ত স্বর।
কেতাব-ই-র ব্লগজিনের পাতায় আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে এই ৭০ পর্বের দীর্ঘ কবিতাটি। আজ প্রথম সাতটি পর্ব।


আমার জন্ম আমি অস্বীকার করতে পারি
না। অথচ এহেন জীবনধারণে, স্বকীয়তা
দেখাতে গিয়ে ব্যর্থ হই। যেখানে যতিগুলি ঘন
হয়ে বসে আছে ওই, ঠিক তার
পাশে আমি; আমার রক্তবমি ধুয়ে-মুছে
গেছে; কিংবা মাড়িয়ে গেছে কেউ কেউ
অভিসন্ধি নিয়ে! এবং আমিটি একা: কাতরাই—
মৃত্যু চাইছি, তবু, মৃত্যু নামে না—
অথবা এমন, ভাবো: জন্মের বহু আগে,
বিধাতা, ব্রহ্মণ্যরূপী খোদিত করে গেছে
মৃত্যুই—কৃতঘ্ন হয়েছি এমনভাবে আমি,
অপলাপ করে যাই নিরন্তর—অতএব,
একটি মৃত্যুর ভিতর অজান্তে বেড়ে উঠি
আমি। একটি বৃত্তের ভিতর সীমাবদ্ধ; থেকে যাই আমি!


শরীর দেবতা হয়েছে। অথবা, হয়েছে ভাবি
ফুলের বাগান। এখানে মানুষ আসে, বিহার
করে, সাদা চাদরের মৃদু উড়ে যাওয়া
দেখে, সামান্য, দু-ফোঁটা অশ্রু ফেলে—একেই
কি লোকে তবে মরে যাওয়া বলে?
একে যদি মরে যাওয়া বলা হয়,
তবে,
বেঁচে থাকা কাকে বলে, বুঝিয়ে বলো তো—
তবে কি বাঁচা মানে তীক্ষ্ণ দাঁতে
আধপোড়া পাখিমাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাওয়া?
কথার সংকেতে চমকিত হও; জেগে ওঠো—
দ্যাখো: শরীর দেবতা হয়ে শুয়ে আছে
শান্ত মেঝেয়। ঠাণ্ডা দু-হাত, দু-পা নীরবে
সকলেরই বার্তা শোনে: প্রার্থনা, কিছু ভর্ৎসনা...

কেতাব-ই’র ব্লগজিন বিভাগে লেখা পাঠাতে চান? মেল করুন blogzine.ketabe@gmail.com-এ। মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখুন ‘কেতাব-ই ব্লগজিনের জন্য লেখা’


এই রাত্রি, সৎকার, পিতৃব্য, শোক যা-কিছু
যেতে যেতে পরাহ্নে পিণ্ড চেয়েছে—
দু-হাত দু-পা ছাড়া পৃথিবীতে আর কিছু
আনিনি যেহেতু, শূন্যতা ছাড়া আমি আর
কীই-বা দেব? গাছ-পাথরের আয়ু এখন যেমন,
আমার হয়েছে; আমিও কুলাঙ্গার, দুর্বোধ্য
হয়ে উঠি তত, নিয়মিত। ইত্যবসরে কাকস্নান
ভুলে যাই। ভুলে যাই ময়ূরাক্ষী-গঙ্গা-যমুনা;
ভুলে যাই নদনদী-খালবিল-ডোবা—
তবু মনে থেকে যায় সেই তোমাকে
চারদিক জুড়ে একই খিদে, আঘ্রাণ
তেমনই পরিচিত খিদের টানে, অবধারিত আমি
তোমার নিকটে চলে যাই—তখনও জ্বলছে
শোক: চোঁয়াপোড়া গন্ধে ভরা; খাদ্য বলতে
আমি তখনও দু-মুঠো সর্বার্থে পিণ্ড খুঁজে পাই।


গত রাত্রে হে অন্ধকার, তোমাকে প্রণাম
জানিয়ে, জেগেছি তার সাথে, হেঁটেছি বহুদূর,
এবং স্বপ্ন দেখেছি, অনেক কথা বলেছি:
যা এখানে বলব না, কেন-না ব্যক্তিগত
সেসকল। আজ এই ভোর, আলো আমাকে
পুড়িয়ে দিতে দিতে উপহাস করে;
বলে: ‘কত মিথ্যে বলেছিলে একে অপরকে
সেদিন? কান করেছিলে ঝালাপালা—শুভ সংবাদ
শোনো—তোমরা উভয়ে মৃত আজ। উচ্চারিত
হবে যে-কোনো সময়, সমভাবে—দেখা যদি
সত্যিই আর কখনও হয়, তবে, দেখা
হোক তোমাদের মৃত্যুর পরে, পরপারে—
আমাদের আর কী-বা হবে শুধু ঈর্ষা
ছাড়া? দু-চোখে অন্ধ সেজে গরম বালি
ভরে নেওয়া। বাধা কে দেবে? বরং,
লক্ষণা দেবে, প্রকাশ্যে, সহাস্যে মুখের ওপর!’


যেভাবে, যেদিকে চাও, প্রণত হয়েছি। অসুরের
মতো করে পেতেছি দু-হাত সম্মুখে—অনুকরণ,
জানি, নষ্ট করে দেবে সম্পূর্ণরূপে, তিলে-তিলে!
কষ্ট হয়, করুণা হয়, তবু, বলি দিই,
অক্ষরের—বলি, ‘আমায় আরও দাও, অক্ষর,
প্রতিটি শ্বাসে; অননুকরণীয়, অনিঃশেষ’—
কোনো কোনো চোরাগলি রহস্য পায় প্রতিদিন;
কেউ তাকে এনে দেয় কিংবা সেসব
প্রভূত? স্নেহের স্পর্শ পাব? কার কাছে?
চিবুকে... কপোলে। ঘোরতরভাবে বাঁচা নয়;
আমাকে মৎস্য ভেবে, ছিপের প্রয়োগ করে
স্ত্রী-সন্ততী-সংসার! এর মাঝে আমি
থাকি; এর মাঝে থাকতে কি চাই?
কোথায় লুকিয়ে তুমি রেখেছ হে প্রেম,
আমার মৃত্যুবাণ, অমরত্ব ও অন্ধকার?


আবার মাথার ভিতর জমে যক্ষরূপী মেঘ
সীমানা ভুলে যায়, অন্য গোলার্ধে যায়,
অভিযোজিত হতে চেয়ে। আমাকে দ্বিখণ্ড করো,
গত শতাব্দীর ভারত যেভাবে—আমার ভিতর
কোনো দেশ, রাজনীতি, নোয়াখালি খুঁজে
পাও কি না দ্যাখো—তোমাদের আহ্বান করি,
সসম্মানে, সরবে। এতদিন খেয়ে-পরে বেঁচে
থাকা পাপ, জানো না? জানো না পুরুষার্থ?
কপটতা অন্য নামে চেনাই তোমাকে—লীলা
বলি; আমরা আবাদ করি আনাজ, ওষধি।
সমানভাবে আজ ভালোবাসা ভাগ করে দিই,
সমানভাবে, যত নিন্দুক আছে, মেখে নেয়
গায়ে কলঙ্ক, কালি—অভাব ছিল না,
তাই দায়ও ছিল না; অন্তর্কলহ আর ডেকে
এনো না তুমি এসবের মাঝে। বড়ো বেশি
ক্লান্ত লাগে; বড়ো বেশি প্ররোচনা যেন;
আঘাত দিয়েছ যত, নিজেও ফেরত পেয়েছ;
হয়তো গর্ব তারই—বাস্তবে নয়; মনে-মনে, কল্পনায়।


লেখাগুলি জীবন্ত প্রাণ। লেখাগুলি শিশুদের শব।
কী এক উদ্ভাবনা, কী এক উন্মাদনা
বয়ে চলে সে—ত্যাজ্য করেছে কখন,
যেন নিজের বেখেয়ালে, যূথবদ্ধ আসবাবে পরিপূর্ণ
ঘর—এমনও তোমার দুর্বিপাক: অন্যের স্বপ্নগুলি,
কল্পনা পড়ে ফেলো। পেরিয়ে যাচ্ছে তোমার
নিজের ঘুমন্ত হওয়ার সময়। সময়টি ধূর্ত
খুব: হাতে রক্তের ছিটে; মাদক চালান
করে, নেশাদ্রব্য হিসেবে কবিতা তুলে দেয়!
বিচার করো, হে প্রভু, দীনের অভিযোগ,
দৈনিক যন্ত্রণা—যে তাকে শান্তি দেবে
না, সে কেন তারই কাছে ফিরে যাবে
বারবার? কোন মন্ত্রে? কোন ছলে? কোন
জাদুবলে? উত্তরে আজ এক ধু-ধু নীরবতা।


কেতাব-ই’র মুদ্রিত বই,ই-বই এবং ব্লগজিন বিভাগের লেখালিখির নিয়মিত খোঁজখবর পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন


এই ব্লগজিনে প্রকাশিত সমস্ত লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব।

লেখক

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। কবিতা লেখার ইচ্ছে রয়েছে। ‘প্রতিভাহীন পাথর’ নামে একটি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মানচিত্রে ও অজান্তে’।

অন্যান্য লেখা